Opu Hasnat

আজ ২৪ জুন রবিবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

ভোলায় পরিবেশ বিপর্যয়ে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল ভোলা

ভোলায় পরিবেশ বিপর্যয়ে বিলুপ্তির পথে জাতীয় পাখি দোয়েল

ভোলার এক সময়ে গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ঘাটে, বনে জঙ্গলে, গাছে গাছে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ নানা ধরনের পাখি দেখা গেলেও কালের আবর্তে এখন আর চিরচেনা সেই পাখি দেখা যায়না, পাখি দেখার কলরবে মুখর গ্রামের মেঠো পথ এখন পাখি শূন্য হতে চলছে। বনে জঙ্গলে গাছে পাখি দেখার সেই অপরুপ দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। দুরভীন ব্যবহার করেও দুস্কর হয়ে পড়েছে পাখির দেখা। 

বনাঞ্চলের পরিবেশ দুষন, নির্বাচারে গাছ কাটা, জমিতে কিটনাশকের যদেচ্ছ ব্যবহার, পাখির বিচরন ক্ষেএ ও খাদ্য সংকট আর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে দোয়েলসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি। 

মনপুরার ঢালচর এলাকার ষাটার্ধো বৃদ্ধ জয়নাল মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও মানুষের ঘুম ভাঙ্গত পাখির ডাকে। তখন বোঝা যেতে ভোর হয়েছে। পাখির কলকাকলীই বলে দিতো এখন সকাল, শুরু হক দৈনেন্দিন কর্মব্যস্থতা। 

কিন্তু এখন যেন পাখির ডাক হারিয়ে গেছে, এখন গাছ গাছালিতে পাখির ডাক নেই। রুহুল আমিন বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতির সাথে জড়িত সেসব পাখিগুলোর ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধ করতো সেই পাখিই ক্রমান্বই হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে দোয়েল পাখির এখন আর দেখাই মেলছে না। 

কয়েকজন বয়স্কদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দোয়েল, ময়না, কোকিল, শালিক, চড়ইসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখি গ্রামাঞ্চলের বিলে-ঝিলে, ঝোপে-ঝাড়ে, গাছের ডালে, বাগানে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনার ডালে বসে তার সুরের ধ্বনিতে মুগ্ধ করে। 

এই পাখির চিচি-মিছির শীষ দেওয়া শব্দ এখন আর কানে শোনা যায় না। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় বাশ গাছে, আমের ডালে, সজিনা গাছে, বাগির ছাদে যে পাখি সব সময় দেখা যেত সেই পাখি এখন আর চোখে পড়ে না। 

তবে কম সংখ্যক টিয়া, ঘুঘু, কাক, মাছরাঙ্গা, ইত্যাদি পাখি শহর, গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও জাতীয় পাখি দোয়েল তেমন আর মানুষের চোখে পড়েনা। তাই পাখি প্রিয় অনেক সৌখিন মানুষের বাড়ির খাচায় বন্ধি করে পাখি পালন করতে দেখা যায়। পাখি পালন ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন বলেন, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। 

নতুন প্রজন্ম ওই পাখি দেখতে পান না, তা ছাড়া শিকারীদের দৌরাত্বের কারনে পাখি শূন্য হয়ে পড়েছে বনাঞ্চল। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িতে বসেই বেশ কিছু প্রজাতির পাখি পালন করেছি। যাতে করে নতুন প্রজন্ম পাখি সম্পর্কে জানতে পারে। 

সচেতন মহল মনে করেছেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে ফসলি জমিতে উঠছে ঘরবাড়ি,তাছাড়া জনসংখ্যা প্রভাবেও কোথাও না কোথায়ও প্রতিদিন নতুন নতুন ঘরবাগি তৈরি হচ্ছে। এতে গাছ ঘাছ কেটে বন উজার করে পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংশ করে দেয়া হচ্ছে। 

তাই আগের মতো বনে জঙ্গলে তেমন পাখির দেখা মিলছে না। সাওার ও মহসিনসহ অন্যরা বলেন, জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেএেই দেখা যায় পাখি মরে যাচ্ছে, আবার খাদ্য সংকট ও আভাসস্থল কমে যাওয়ায় পাখি বংশ বিস্তার করতে পারছেনা, এতে কমে যাচ্ছে পাখি। তাই পরিবেশের রক্ষা জরুরী বলে মনে করছেন তারা। 

বেশী মুনাফার আশায় বনে চোরা শিকারীরা বিভিন্ন ফাদ পেতে পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে শিকারের হাত থেকে বাচাতে জীবন রক্ষার্থে পাখি অন্যএ চলে যাচ্ছে। অনেক সময় তাদের হাতে মারাও যাচ্ছে পাখি। অথচ প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা নেই। 

এ বিষয়ে ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, শীত মৌসুমে পাখি শিকারের কিছু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটে থাকে। এছাড়া অন্য সময় তেমন শিকার হয়না। তিনি বলেন, বন্য প্রানী ও পশু পাখি আভাসস্থলে সামান্য খাদ্যের সংকট থাকলেও উপকূলের বন রক্ষায় বন বিভাগ তৎপর রয়েছে। বন রক্ষা হলে পশু-পাখি, বন্যপ্রানীও রক্ষা হবে। 

এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মাঝে মধ্যেই পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে, কৃষি জমিতে মাএারিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনসহ, উপকুলের বন ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় পাখি দোয়েণসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখির দেখা মিলবে না বলে মনে করেছেন পরিবেশবাদীরা।