Opu Hasnat

আজ ২১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০১৮,

দিনাজপুরে প্রশাসনের নিদের্শ অমান্য করে দুটি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে দিনাজপুর

দিনাজপুরে প্রশাসনের নিদের্শ অমান্য করে  দুটি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে

দিনাজপুরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অদ্ভুদ খুঁটির জোরে দুটি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম বীরদর্পে চালাচ্ছে।  ব্লাড ব্যাংক দুটিতে নিম্নমানের সেবা প্রদান করায় প্রতিনিয়ত আগত ভুক্তভোগীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। সিভিল সার্জন, দিনাজপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠান খুলতে গেলে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক, রক্তের গ্র“প পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় উপকরণ, সঞ্চালনের নিরাপদ ব্যাগ, রক্তবাহিত রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ও ঔষধ, রক্ত সংরক্ষণের সঠিক মানের ফ্রিজ সহ অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুর শহরে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে নিম্নমানের হলিক্রস ব্লাড ব্যাংক ও মেডিনেট ট্রাস্ট ব্লাড ব্যাংক লাইসেন্স বিহীনভাবে ২০১৪ সাল থেকে তাদের ব্যবসা পরিচালিত করে আসছে। উক্ত দুটি ব্লাড ব্যাংকে নিম্নমানের সেবা প্রদান করায় দীর্ঘদিন ঘরে আগত ভুক্তভোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সহ হয়রানীর শিকার হয়। 

গত ২৩ মে বেলা সাড়ে ১২ টার সময় দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস সরেজমিন পরিদর্শন কালে জানতে পারেন যে, প্রায় ৪ বছর ধরে হলিক্রস ব্লাড ব্যাংক ও মেডিনেট ট্রাস্ট ব্লাড ব্যাংক দুটি প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো, জনবল, ভৌত সুবিধাদি, যন্ত্রপাতি তালিকাসহ ব্লাড ব্যাংকের সেবাসমূহ সঠিক মানের পাওয়া যায়নি। এ কারণে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন ২০০২ (এস.আর.ও) নং- ৯৩ আইন/০৫ এর উপধারা ০৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত উক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রোডে ব্লাড ব্যাংক দুটি প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তারা অদ্ভুদ খুঁটির জোরে ব্লাড ব্যাংকের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে হলিক্রস ও মেডিনেট ট্রাস্ট ব্লাড ব্যাংক পরিচালনাকারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা অল্প সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দপ্তরে প্রেরণ করবেন।

প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ দেয়ার পরও বর্তমানে চালু থাকায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, সিভিল সার্জন, দিনাজপুর-কে অবগত করে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান চালানোর এমন কোন লিখিত কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। হলিক্রস ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, ৩/৪ জন কর্মরত স্টাফ তন্মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে এস এ বাবু রিসিপশনে রাশেদুজ্জামান আয়া পদে মিতু এবং মোহনা ক্লিনিকের মালিক আতিকুর রহমানকে দিয়ে হলিক্রস ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে। হলিক্রস ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩টি কক্ষ থাকলেও ব্লাড ব্যাংকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেখা যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য কর্মরত টেকনোলজিস্ট এস এ বাবুকে বললে তিনি মুঠোফোনে মালিককে আসতে বললেও প্রতিষ্ঠানের মালিকের দেখা মেলেনি। তদ্রুপ মেডিনেট ব্লাড ব্যাংকের একই অবস্থা। ৩/৪ জন কর্মরত স্টাফ প্রতিষ্ঠানটি দায়সারাভাবে পরিচালনা করছে। এখানে ২ জন টেকনোলজিস্ট ১ জন আয়া সহ মার্কেটিং ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছে ১জন। মেডিনেট ব্লাড ব্যাংক পরিচালনার বিষয়ে কর্মরত টেকনোলজিস্ট এমাজ উদ্দীন খান জীবন এর সাথে কথা হয়। সে মুঠোফোনে জুয়েল নামে প্রতিষ্ঠানটির এক শেয়ার হোল্ডারকে ডেকে যোগাযোগ করায়। জুয়েল নামে এক শেয়ার হোল্ডার মেডিনেট ব্লাড ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দায়সারাভাবে দেখানোর পর বলেন, আপনারা এখানে কেন এসেছেন? এ সমস্যা আমাদের, এ সংবাদ আপনাদের করার দরকার নেই। এ কথা বলার পর সে একাধিক স্থানে ফোন করে আমাদের প্রতিনিধিকে হুমকি ধামকি প্রদান করে। তার ভয়ভীতিকে তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ভালোভাবে অবগত হওয়ার চেষ্টা করে আমাদের প্রতিনিধি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন, দিনাজপুরকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে বন্ধের নোটিশ দেয়ার পর চালু করার কোন অনুমতি প্রদান করা হয়নি। তারা প্রশাসনের নির্দেশকে অমান্য করে বীরদর্পে প্রতিষ্ঠানটি খোলা রেখে ব্লাড ব্যাংকের ব্যবসা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার সুশীল সমাজ।