Opu Hasnat

আজ ২৫ জুন সোমবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ এবং ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার

ঝালকাঠিতে ডাক রিয়ারিং ইউনিট সংস্কারের ২ বছরেও চালু হয়নি কৃষি সংবাদঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে ডাক রিয়ারিং ইউনিট সংস্কারের ২ বছরেও চালু হয়নি

ঝালকাঠির ৫ম চীন মৈত্রি সেতুর পশ্চিম ঢালে ডাক রিয়ারিং (হাঁস প্রতিপালন) ইউনিট ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর কার্যক্রম চালু ছিলো।  ২০০৯ সনের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইউনিটের কার্যক্রম মুখ থুবরে পরে। পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয় ইউনিটটি। ক্রমান্বয়ে কার্যক্রমের অযোগ্য হয়ে পড়ে ভবনটি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। সংস্কারের ২ বছর অতিবাহিত হলেও চালু হয়নি হাঁস প্রতিপালন ইউনিট। অযত্ন অবহেলায় পুনরায় পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হওয়ায় সেখানে মাদকসেবীর নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় হ্যাচারীসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন প্রকল্পের বরিশাল বিভাগের একমাত্র হাঁস প্রতিপালন ইউনিট এটি। এটি চালু হলে শুধু ঝালকাঠি নয় এ বিভাগে উন্নত মানের হাঁসের বাচ্চা সরবরাহ করা সম্ভব হতো। ফলে হাঁস পালনে আগ্রহী খামারিরা অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে পারত। ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল -প্রবাদ বাক্যটির সাথে এ অঞ্চলে  হাঁস পালনের একটি পরিবেশ আছে। কারণ হাঁসের অবাধ বিচরণের জন্য খাল বা নদীই পছন্দ। যা বরিশাল অঞ্চলের সব জেলাতেই আছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই সরকারী উদ্যোগে এখানে ইউনিটটি স্থাপন করা হয়। ১ দিনের হাসের বাচ্চা এখানে এনে ২ মাস প্রতিপালনের পর তা বিক্রি করা হতো। ঝালকাঠিসহ বরিশাল বিভাগে হাসের বাচ্চার প্রচুর চাহিদা থাকায় এখানে প্রতিপালিত বাচ্চার তুলনায় চাহিদা ছিল ২/৩ গুন বেশি। কিন্তু উৎপাদন অপ্রতুল হওয়ায় অপর জেলা থেকে আসা ক্রেতাদের আগেই  ঝালকাঠি ও আশেপাশের খামারিরা তা ক্রয় করে নিয়ে যেত। 

সুত্রটি আরো জানায়, ঝালকাঠি গাবখান এলাকার ২ একর জমির উপর ২০০৬-০৭ অর্থ বছরের ২৩ এপ্রিল এটি চালু করা হয়। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইউনিটটিতে মাত্র ২ বছর এর কার্যক্রম চালু ছিল। ২০০৯ সনের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইউনিটের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পরে। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এই বিশাল ভবনসহ ইউনিট প্রাঙ্গণ অযত্ন অবহেলায় পরে থাকে। এই সুযোগে এলাকার কিছু মাদক আসক্ত ও অসাধু লোকজন ভবনের গ্রীলসহ ভিতরের মূল্যবান আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এমনকি রাতের আধারে ইউনিটের বৈদ্যুতিক পাখাসহ লাইনের তার, কাঠের দরজা, জানালা খুলে নিয়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় ইউনিট প্রাঙ্গণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে অরক্ষিত অবস্থায় পরে থাকে। ওইসময় ভবনের ভিতরে  এলাকার কিছু লোকজন তৎকালিন জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের সহায়তায় অবৈধ মুরগির খামার গড়ে তোলে। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরা হলে প্রাণী সম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। এরপরই কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে ইউনিটটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঝালকাঠি প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি জেলায় মোট ছোট বড় হাঁসের খামার আছে ১২২ টি। এতে মোট হাসের সংখ্যা ৫ লাখ ২৯ হাজার ২৬৮টি। তারপরেও শুধু ঝালকাঠি জেলাই হাসের বাচ্চার চাহিদা আছে প্রায় ৪০ হাজার। এছাড়া বরিশাল বিভাগের অপর ৫টি জেলায় যে পরিমাণ হাঁসের বাচ্চার চাহিদা আছে তা পূরণ করা সম্ভব হতো এ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হলে। 

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আঃ হান্নান জানান, এ ইউনিট সংস্কার করা হলেও এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই এটি কবে নাগাদ চালু করা হবে তা আমার জানা নেই। বরিশাল অঞ্চল হাঁস পালনের সবচেয়ে উপযোগী। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই এবং হাঁস ও হাঁসের ডিম বিক্রি করে খামারিরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারে। কিন্তু হাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় সরকার এই হাঁস প্রতিপালন ইউনিটটি নির্মাণ করেছে। সম্ভবত লোকবলের অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি এটি আবার চালু হলে এ অঞ্চলের হাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।