Opu Hasnat

আজ ১৭ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৮,

সরকারী ভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়নি এখনো

সুনামগঞ্জে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে কৃষকরা কৃষি সংবাদসুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে কৃষকরা

বিগত কয়েক বছর ধরে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকরা ফসল হারিয়ে দিশেহারা । তারা বিগত বছরগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে আনহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করেছেন অনেকেই। চলতি বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ তেমন একটা না থাকায়  আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে ফসল রক্ষা বাধঁ নির্মানে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতে ফসল ঘরে তুলতে পারলেও ধানের ন্যায্য মুল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। সরকারী ভাবে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও কৃষকের কাছ থেকে এখনো ধান সংগ্রহ না করার কারণে কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে পেঠের  তাগিদে কমমূল্য স্থানীয় পাইকারদের নিকট ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। তবে শুধু মাত্র চাল সংগ্রহ শুরু করলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকরা বঞ্চিত রয়েছেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যয্য দাম থেকে, কারণ চাল দিচ্ছেন শুধু চালের মিল মালিকরা।
   
গত ২ মে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরুর করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিক শুরু করেছে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম। ফলে কৃষকদের জীবন-যাপনের তাগিদে স্বল্পমুল্যে স্থানীয় (বেপারী) ফরিয়াদের কাছে ধান চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পর পর কয়েক বছর ফসল হারিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে গুদাম গুলোতে সঠিক সময়ে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু না করায় স্বল্প মুল্যে স্থানীয় (বেপারী) ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে কৃষকের কষ্টার্জিত সোনালী ধান। ধান কাটতে শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি অর্থ সংকটেও ছিল কৃষকরা। বাধ্য হয়ে শ্রমিকের মুজুরি, ঋণসহ পরিবারের চাহিদা পুরনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান মণপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০টাকা দরে বিক্রি করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষকরা। সঠিক সময়ে সরকারীভাবে খাদ্য গুদামগুলোতে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না করায় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশাও দেখা দিয়েছে। চলতি বছর সুনামগঞ্জ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার মে.টন ধান ক্রয় করার লক্ষমাত্রা নির্ধারন করেছে সরকার। তবে প্রকৃত কৃষকরা ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন কি-না এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। 

এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়নের টাইলা গ্রামের কৃষক সুধারঞ্জন দাস, জামাল উদ্দিন, জানান, সরকার প্রতিবছরই কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত চালু না করায় স্বল্প মুল্যেই স্থানীয় বেপারীদের কাছে সাড়ে ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা মন ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। আর সরকারী খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলেও ধরতে হয় বিভিন্ন দালাল ও সরকারদলের নেতাদের। এত ঝামেলা সহ্য করে কোন লাভ হয়নি। তবে লাভ হয় সরকারী দলের নেতাকর্মী ও আমলাদের। ধান দিতে গিয়ে অতীতে জামালগঞ্জে এমন ঝামেলা পোহাইছি। এক শ্রেনীর দালালদের কারনে। সরকারের পক্ষ থেকে এটা মনিটরিং করার দাবি জানাচ্ছি এবং দ্রæততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয় করার শুরু করা হউক। 

এ ব্যাপারে কৃষক সজল মিয়া জানান, গত দুই বছর ফসল হারিয়ে এবার মোটা মোটি ভাল ফসল পেয়েছি, কিন্তু ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় আসলই উঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। প্রত্যেক বছর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মুল্যে ধান ক্রর করলেও এবার এখন পর্যন্ত কোন খবর নাই। তবে শুনেছি ২৬টাকা কেজি ধরে ধান কেনা হবে কৃষকদের কাছ থেকে। 

এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপক তালুকদার বলেন, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে যদি কৃষকদের তালিকা তৈরী করা যেতো তাহলে প্রকৃত কৃষকরাই গুদামে সরাসরি ধান বিক্রি করে লাভবান হতো। 

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো: আব্দুর রউফ জানান, ধান ক্রয়ের বিভাজন এখনো পাওয়া যায়নি। তাই এখনো ধান ক্রয় করা শুরু করতে পারছি না। তবে  কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পাওয়ার সাথে সাথে ধান ক্রয় শুরু করা হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবে।