Opu Hasnat

আজ ২৩ মে বুধবার ২০১৮,

রাজাপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্মের মা ডেকে গহনা ও চেক চুরি ঠেকাতে চাঁদা দাবী ঝালকাঠি

রাজাপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্মের মা ডেকে গহনা ও চেক চুরি ঠেকাতে চাঁদা দাবী

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মানকি গ্রামের এছাহাক হাওলাদারের ছেলে মনির হাওলাদার  উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামের দুবাই প্রবাসী আজগর আলীর স্ত্রী কহিনুর বেগমকে ধর্মের মা ডাকেন। এ কারণে বাসায় যাতায়াত ছিলো অবাধ। বাসায় আসা যাওয়ার সুযোগে চেক, দলিল, সোনার গহনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি করে মনির। নিজেকে রক্ষা করতে চেক জালিয়াতির মামলার হুমকি দিয়ে মনির উল্টো ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবেিত কহিনুর বেগম ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।  বিষয়টি জানিয়ে রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে কহিনুর বেগম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে জানান, মানকি গ্রামের এছাহাক হাওলাদারের ছেলে মনির হাওলাদার আমাকে ধর্মের মা ডেকে বাসায় যাতায়াতের সুযোগে গত এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে কৌশলে ঘরের আলমিরা খুলে কোর্ট ফাইল থাকা আমার স্বাক্ষর করা সোনালী ব্যাংকের ৩টি চেক (নং ৩০০২২৯০, ৩০০২২৯১ ও ৯৩২৮৯৬৯), ৫টি জমির দলিল, ৪টি পর্চা, জাতীয় পরিচয়, মেয়ের জন্মসনদ, ছেলের এসএসসির সনদ, আলমিরার মধ্যে থাকা ৪০ হাজার টাকা, ২টি সোনার চেইন, ২ জোড়া কানের বালা, ১টি আংটিসহ মোট ৩ ভরি সোনার গহনা নিয়ে মনির নিয়ে যায়। গোপনে সোনালী ব্যাংক একাউন্ট (নং ১১৪৬০) থেকে ১২শ টাকা উত্তোলন করে নেয়। কিন্তু সু-চতুর প্রতারক মনির প্রবাসীর স্ত্রী কহিনুর বেগমের ছেলেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করে নানাভাবে হয়রানি করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এ ঘটনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে মনিরের বিপক্ষে অবস্থান নিলে সে বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়। 

কহিনুর বেগম আরও অভিযোগ করেন, মনিরের কাছে থাকা ২টি চেকের মাধ্যমে বর্তমানে কহিনুরের কাছে ৭  লাখ টাকা দাবি করে আসছে অন্যথায় কহিনুরের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলাসহ নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে কহিনুর বেগম বাদি হয়ে মনিরের বিরুদ্ধে মালামাল ও কাগজপত্র উদ্ধারে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ৭ মে মামলা দায়ের করে। এরপূর্বে আমার বিবাহিত মেয়ে বাড়িতে বেড়াতে এলে তাকেও নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো মনির। মেয়ে তা প্রত্যাখান করলে মনির ওই মেয়ের বর্তমানে মেয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা অপপ্রচার শুরু করছে। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির হাওলাদারের মতামতের জন্য তার ব্যবহৃত নম্বরে (০১৭৮৭২৪০৪৩৭) কল দিলে প্রথম বার অপেক্ষায় (ওয়েটিং) পাওয়া গেলেও পরে একাধিক বার কল তা বন্ধ পাওয়া গেছে। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজাপুর থানার এসআই ফিরোজ আলম জানান, আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী দলিল ও চেক উদ্ধারপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।