Opu Hasnat

আজ ২০ জুলাই শুক্রবার ২০১৮,

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য, যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বুধবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদস্থ  ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাসুদ-উল-হাসান।

তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে শোরুম ও বিপণিকেন্দ্রে গ্রাহকের কাছে বিক্রীত পণ্য প্রয়োজনে ফেরত নিতে হবে। অনেক বড় শোরুমে ফেরতের আলাদা কাউন্টার থাকে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে। চট্টগ্রামে উন্নয়নের মধুর বেদনা অনুভব করছি। রাস্তাঘাট এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে।  মিমি সুপার মার্কেটে পার্কিং সীমিত। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। আপনারা নারী সিকিউরিটি রাখতে পারেন। কেনাকাটায় নারীবান্ধব পরিবেশ রাখতে হবে। বখাটের উৎপাত ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ থাকতে হবে। সানমার চাইলে নাসিরাবাদ স্কুল মাঠ পার্কিং হিসেবে নিতে পারে। আমরা সহযোগিতা করব।

রমজানে যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূরপাল্লার বাস সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরে ঢুকবে না। সকাল ১১টা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি রাত ৮টা পর্যন্ত নগরে চলবে না। মহাসড়কে ঈদের সময় পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর গাড়ি যাতে বন্দর-অফডক চলাচল করতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রমজানে যানজট নিরসনে নগরের সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। ফুটপাতে ইফতার বাজার বসানো যাবে না। তবে হান্ডি রেস্টুরেন্টের মতো যেখানে বড় জায়গা থাকবে তারা ইচ্ছে করলে ইফতার বিক্রি করতে পারবে। সড়কে কোনো হকার বসতে পারবে না।

রমজানে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিনতাইকারী ও বখাটের উৎপাত ঠেকানো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুটি বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান নেব। ব্যবসায়ীদের অগোচরে পণ্যবাহী গাড়িতে যাতে মাদক পাচার না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এখন গাড়ির চাকায় ম্যাগনেট লাগিয়ে ইয়াবা আনা হচ্ছে। কাঠ ছিদ্র করে ফাঁকা বাক্স তৈরি করে ইয়াবা আনছে। গোপন সংবাদে আমরা এ কৌশল নস্যাৎ করে দিচ্ছি।

মাহবুবুল হক বলেন, চিটাগাং চেম্বার চট্টগ্রামের কথা বলে না, সারা দেশের অর্থনীতির কথা বলে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে রমজানের জন্য মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ির ওজন নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হবে। এটা হলে দেশের কোনো অঞ্চলে পণ্যের কৃত্রিম সংকট হবে না। কৃত্রিম সংকট যাতে না হয় সেদিকে ব্যবসায়ী নেতাদের নজর রাখতে হবে। এতে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশ্বের সব দেশে উৎসবে ছাড় দেওয়া হয়। সিসিসিআই ভর্তুকি মূল্যে চাল, চিনি বিক্রি করে রমজানে। এতে নিম্নআয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। আশা করব প্রতিটি করপোরেট হাউস এ ধরনের উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, রমজানে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। বিপণিকেন্দ্রের সামনে নজরদারি বাড়াতে হবে। যাতে মা-বোনেরা নিরাপদে কেনাকাটা করতে হবে। রমজানে পচা-বাসি কোনো খাবার যাতে বিক্রি না হয় সে জন্য সিরিয়াস অ্যাকশন নিতে হবে। প্রশাসন একা এটি পারবে না। ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা করতে হবে। কাঁচামরিচ, বেগুন পচনশীল পণ্য। এগুলোর দাম কেন বাড়বে?