Opu Hasnat

আজ ১৬ নভেম্বর শুক্রবার ২০১৮,

ডিএসএ ফাস্ট ডিভিশন লীগে ‘চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমী’ নীলফামারী

ডিএসএ ফাস্ট ডিভিশন লীগে ‘চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমী’

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নে গড়ে উঠা ‘চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমী’ দিনকে দিন আলোর মুখ দেখছে। সেই সঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল থেকে বেশকিছু প্রতিভাবান ক্রিকেটার বেরিয়ে আসছে। সর্বশেষ নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত ডিএসএ বাছাই পর্ব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ডিএসএ প্রথম আলো ফাস্ট ডিভিশন লীগে খেলার গৌরব অর্জন করেছে। ১৩ ই মে রবিবার নীলফামারীর বড় মাঠে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট ক্লাবকে ৫ উইকেটে হারিয়ে এই লীগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমী।

টানটান উত্তেজনাকর ম্যাচে টসে জিতে চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীকে বোলিংয়ে পাঠায় ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট ক্লাব। ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান করতে সক্ষম হয় ভিক্টোরিয়া। বল হাতে চৌমুহনীর পক্ষে সাব্বির ও সোহেল তিনটি করে উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় চৌমুহনী। ব্যাট হাতে সর্বচ্চো ২২ রান করেন সুমন ইসলাম। 

এদিকে এই একাডেমীর এমন ঈর্ষনীয় পারফরমেন্স নজর কেড়েছে সবার। অনেকেই এই সাফল্যের পিছনে কৃতিত্ব দিয়েছেন একাডেমীর কোচিং স্টাফ সংশ্লিষ্ট সকলকে। রশিদ মন্ডল নামে একজন ক্রিকেট প্রেমী জানায়, গ্রাম পর্যায়ের ক্রিকেটাদের নিয়ে গড়ে উঠা এই একাডেমীর এমন সাফল্য সত্যিই অভাবনীয়। রুহুল ইসলাম নামে আরেকজন ক্রিকেট প্রেমী জানায়, ‘সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যকার ভালো সমন্বয় এবং কোচিং স্টাফদের উজ্জীবিত করার প্রবণতাই চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীর সফলতার মূল কারণ।’

বর্তমানে চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে প্রায় ৩০ খুদে ক্রিকেটার। এরমধ্যে দুইজন মেয়েও রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল বিভিন্ন সেশন ভাগ করে অনুশীলন করানো হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ করান গৌতম, সুমন, সোহেল ও জিহাদ। এই একাডেমী থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে নীলফামারী জেলা অনূর্ধ্ব ১৪ দলে খেলছে চৌমুহনীর ভগত পাড়ার উত্তম কুমার। এছাড়াও বিকেএসপির এক মাসের বিশেষ ক্যাম্পিংয়ে রয়েছে ভুজারি পাড়ার ববিতা রানী রায়।

চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীর কোচ গৌতম চন্দ্র রায় জানায়, ‘আমাদের চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীর যাত্রা শুরু করার খুব বেশিদিন হয়নি। এরমধ্যে আমরা বেশ কিছু টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে সফলতার মুখ দেখেছি। আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সৈয়দপুরবাসীকে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই।’

হাটি হাটি পা পা করে চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমী একদিন সৈয়দপুর সহ গোটা জেলার নাম উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো খেলোয়াড় গড়ে তুলবে। এমনি প্রত্যাশা চৌমুহনী ক্রিকেট একাডেমীর সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর।