Opu Hasnat

আজ ১৪ নভেম্বর বুধবার ২০১৮,

জরুরী সংস্কারের দাবী এলাকাবাসীর

পাইকগাছার আমুরকাটা খালের উপর ব্রীজটির বেহাল দশায় খুলনা

পাইকগাছার আমুরকাটা খালের উপর ব্রীজটির বেহাল দশায়

পাইকগাছার আমুরকাটা খালের উপর ব্রীজটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীসহ দু’গ্রামবাসী চরম বিপাকে পড়েছে। দেখার কেউ নেই। স্কুলের শিক্ষার্থীরা ঝুকির মধ্যে ব্রীজ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ব্রীজের উপর বাঁশের চালার ব্যবস্থা করেছে। এলাকার সচেতনমহল ব্রীজটি সংস্কারের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা স্লুইজ গেটের খালটি মরাকুচিয়া নদী অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। উক্ত খালের দু’পাড়ে দীঘা ও দক্ষিণ কাইনমুখী নামে ২টি গ্রাম রয়েছে। যে ২টি গ্রামে হাজার হাজার লোকের বসবাস। দু’গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য স্থাপিত একমাত্র দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীঘা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দক্ষিণ কাইনমুখী গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়ে। যে কারণে আশির দশকে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় খালের উপর দু’গ্রামবাসীর জন্য একটি বেইলী ব্রীজ তৈরী হয়। যে ব্রীজটি ভেঙ্গে চুরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে দক্ষিণ কাইনমুখী গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়ে। যে কারণে এলাকার লোকজন নিজেদের উদ্যোগে ব্রীজটির উপর বাঁশের চালা তৈরী করে কিছুটা হলেও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। কিন্তু কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করাটা অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। 

ইউপি সদস্য রাজেশ চন্দ্র মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজটি ভেঙ্গে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার কারণে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেও ব্রীজটি সংস্কারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

তপন কুমার মন্ডল (৬৫) জানান, আমাদের উদ্যোগে বাঁশের চালা দিলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে চরম ঝুকি। ভবেন্দ্রনাথ মন্ডল (৬৫) জানান, এলাকার রেশারেশীর কারণে ব্রীজটি সংস্কারে কারোর কোন উদ্যোগ নাই। অথচ, এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতা, এমনকি জেলা পরিষদ সদস্যও রয়েছে। শিবুপদ গাইন জানান, ব্রীজটি সংস্কার না হলে দক্ষিণ কাইনমুখী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়বে। 

দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আমার বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দক্ষিণ কাইনমুখী গ্রামের। বর্ষার সময় উক্ত জরাজীর্ণ ব্রীজ পার হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। অতি দ্রুত সংস্কার না হলে হয়ত বা উক্ত গ্রামের কোন শিক্ষার্থী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসতে পারবে না। এলাকার সচেতনমহল জনগুরুত্বপূর্ণ ও দু’গ্রামের জনসাধারণ বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্রীজটি সংস্কারের জন্য দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত।