Opu Hasnat

আজ ১৯ অক্টোবর শুক্রবার ২০১৮,

ঝিনাইদহ ৩৫ নং বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ বিলের টাকা তোলেন অথচ বকেয়ার দায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন দুই মাস! ঝিনাইদহ

প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ বিলের টাকা তোলেন অথচ বকেয়ার দায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন দুই মাস!

স্কুলের বিদ্যুৎ বিল প্রদানের জন্য প্রধান শিক্ষক দুই মাসের টাকা তুলেছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। অথচ বকেয়া বিল না দেওয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ঘটনাটি ছটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার  ৩৫ নং বালিয়াডাঙ্গার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলের বিদ্যুৎ বিল সরকারী ভাবে পরিশোধ করা হলেও প্রধান শিক্ষিকা মিতা ঘোষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নাম করে দুই দফায় ১৫ টাকা হারে টাকা উত্তোলণ করেন। এদিকে বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকায় গত দুই মাস আগেই ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে দুই দফায় তোলা টাকা কি করলেন প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ ? বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর  সানি  ও তৃতীয় শ্রেণীর  ছাত্রী সুমাইয়া জানিয়েছে বিদ্যুত বিলের কথা বলে সব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষিকা দুই দফায় ১৫ টাকা করে নিয়েছেন। অথচ এই টাকা নেওয়ার পরও বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে গত ২ মাস ধরে তাদের বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই। গরমে ক্লাস করতেও সমস্যা হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৪ বছর ধরে কোন পরিচালনা কমিটি নেই। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১০জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ৪ বছর ধরে তিনি পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষক এডহক কমিটি গঠন করে নিজের ইচ্ছা মতো সরকারি স্লিপের টাকা, অনুদানের টাকা, ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা, বিদ্যালয়ের নিজস্ব পুকুরের টাকা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে আদায়কৃত বিদ্যুৎ বিলের টাকা তছরুপ করছেন। অভিযোগ রযেছে প্রতি বছর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মনোনয়ণ ফরম বিক্রি করে সেই টাকাও আত্মসাত করা হচ্ছে। 

ওই স্কুলের শিক্ষকরা জানান, কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাদে অন্য কোন খাতে টাকা নেওয়া যাবে না বলে বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খাতে টাকা নেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সাবেক সভাপতি সামসুর রহমান অভিযোগ করেন,  গত ৪ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে কোন পরিচালনা কমিটি নেই। তিনি এর আগে সভাপতি ছিলেন। গত ২০১৭ সালের শেষের দিকে নির্বাচন করবে বলে প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ তফসীল ঘোষণা করেন। বেশ কয়েকজন ২৫০০ টাকা করে মনোনয় পত্র ক্রয় করেন। যাচাই বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময় শেষ হলে প্রধান শিক্ষক বলেন নির্বাচন ১০ দিন পরে হবে। সেই থেকে তিনি আর নির্বাচন করেন নি। তার নিজের ও পলাশ নামে আরেক জনের কাছ থেকে মনোনয়ন বিক্রি বাবদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে তিনি ৫ মাসেও পরিশোধ করেনি। 

বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এটি করেন। কমিটি গঠন নিয়ে তিনি বলেন, বেশ কয়েকবার স্কুল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে দুটি গ্রæপ থাকায় তা করা হয়নি। মিতা ঘোষ জানান, শিক্ষার্থীদের কিছু অভিভাবক তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। 

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো: আক্তারুজ্জামান জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বা অন্য কোন কারনে টাকা নেবার এখতিয়ার নেই। তিনি আরো জানান, এ ধরণের অভিযোগ পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন না করা বিষয়ে তিনি সত্যতা পেয়েছেন।