Opu Hasnat

আজ ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০১৮,

সুনামগঞ্জে মাথার গোঁজার জায়গা পেলেও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ২১৮টি পরিবার সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে মাথার গোঁজার জায়গা পেলেও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ২১৮টি পরিবার

অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে বেড়ে উঠছে ছাতকের হাসনাবাদ আবাসন আশ্রয়ন কেন্দ্র ও নোয়ারাই ইউনিয়নের এলাকার আদর্শ গুচ্ছগ্রাম ও দিরাই গুচ্ছগ্রাম। আদর্শ গুচ্ছগ্রাম, আর আবাসন প্রকল্পের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ২১৮টি পরিবারের শত শত শিশু। প্রকল্প এলাকায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় দারিদ্র্যপীড়িত অভিভাবকরা দুরের স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে পারছেন না। অপরদিকে সরকারী উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও নাগরিক অধিকারবঞ্চিত ওইসব প্রকল্পের অধিবাসীরা। ফলে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে করছে। 

জানা গেছে, ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হাসনাবাদ বাজার এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৯০টি এবং আদর্শ গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে ৭৬টি দিরাই উপজেলার রাজননগর ইউনিয়নে ৫২টি আদর্শ গুচ্ছগ্রামে মোট ২১৮টি ভ‚মিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। ১৯৯০ সালের ২০ অক্টোবর ছাতক উপজেলার আদর্শ গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তৎকালীন এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, দিরাই উপজেলার রাজননগর আদর্শ গুচ্ছগ্রাম উদ্বোধন করেন তৎকালীন এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। আর ২০০২ সালের ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে নির্মিত আবাসন প্রকল্প বুঝে নিয়ে অধিবাসীদের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় ছাতক উপজেলা প্রশাসন। 

বসবাসরত বাসিন্দারা জানায়, বিগত ২০-২২ বছরে প্রকল্প এলাকায় বরাদ্দ পাওয়া তাদের ঘরগুলোর ওপরের চালাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি আর শীতের শিশির বাইরে পড়ার আগেই তাদের ঘরের ভেতর পড়ে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এতে করে শিশু আর বৃদ্ধসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গণি(৬৬) বলেন, প্রায় ২৯ বছর আগে আমাদেরকে থাকার জন্য এই জায়গাটুকু দেয়া হয়েছে। স্থান দেওয়ার পর থেকে আর কোনোদিনও সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়নি। গ্রামে শিশুদের লেখাপড়া করার জন্য বিদ্যালয় ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য রাস্তার আবেদন করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। এইসব দুঃখ-দুর্ভোগের কথা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনে বহুবার জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। তবে হাসনাবাদ আবাসন  প্রকল্পে বসবাসকারী শিশুদের শিক্ষার জন্য কোন সরকারী, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি। গত কয়েক বছর আগে আনন্দ স্কুল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পানি সরবরাহের জন্য বসানো ৪টি টিউবওয়েলের সব ক’টি বিকল হয়ে যাওয়ায় নদী-নালার পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন ওখানে বসবাসকারী বাসিন্দারা। শিশুদের নানা ধরনের রোগ-বালাই লেগে থাকে বলে জানান তারা। আর ৭০টি পরিবারের জন্য ৭টি টয়লেট দেওয়া হলেও সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় টয়লেটের ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ে আঙ্গিনায়। আর একটুখানি বৃষ্টি হলেই সেই নোংরা পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উল্লাহ খান জানান, গত ২৭ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান স্যার হাসনাবাদ এলাকার আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে গেছেন। আর নলকুপের বিষয়টা মুলত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায়। তিনি আরো জানান ছাতক উপজেলার আরো ৫০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য আবাসন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নজিবুর রহমান স্যার। নির্মাণ কাজ শেষ করেই ভূমিহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর