Opu Hasnat

আজ ২২ মে মঙ্গলবার ২০১৮,

হরিণাকুন্ডুতে দুই নারী যাত্রা শিল্পী আটক ! ঝিনাইদহ

হরিণাকুন্ডুতে দুই নারী যাত্রা শিল্পী আটক !

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু শহরের একটি বাসা থেকে যাত্রাদলের দুই নারী শিল্পীকে আটক করে চালান দেওয়া হয়েছে। রোববার  বেলা ৩ টার দিকে শহরের পুরাতন সোনালী ব্যাংক পাড়ার মানোয়ারের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। তবে আটকের সময় তাদের সাথে আনোয়ারা ক্লিনিকের মালিক উজ্বলসহ দুই পুরুষ সদস্যকে পুলিশের এএসআই কামরুল ইসলাম, এএসআই সোহেল আটক করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। কিন্তু হরিণাকুন্ডু থানার এএসআই কামরুল শুধু যাত্রা শিল্পী এ্যানী ও অন্তরাকে থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, সোনালী ব্যাংক পাড়ার ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে ঢাকার মেরুল বাড্ডা এলাকার গোলাম মওলার মেয়ে অন্তরা (২৮) ও মিরপুর এলাকার তোতা মিয়ার মেয়ে এ্যানী কয়েকদিন ধরে বসবাস করতেন। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ক্লিনিক মালিক উজ্জল ও লতিফ নামে দুই ব্যক্তির। বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজ করা হতো এমন কথাও স্থানীয়রা জানান। 

এদিকে আটকের সময় অন্তরা ও এ্যানী জানায় তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কাছে কোন কাবিন দেখাতে পারেনি তারা। উপজেলার বলরামপুর গ্রামের তোফাজ্জেল তাদের একজনের স্বামী। এ সময় স্থানীয় কাজী সাইদুর রহমানকেও থানায় নিয়ে আসা হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, পুলিশ আটকের সময় দুই নারী ও দুই পুরুষকে তারা নিয়ে যেতে দেখেছেন। কিন্তু আদালতে পাঠানোর সময় দুই নারীকে চালান দেওয়ার ঘটনায় তাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে। এএসআই কামরুল মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে উজ্বলসহ দুজনকে ছেড়ে দিয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসি জানায়। 

বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আয়ুবুর রহমান জানান, এ্যানী ও অন্তরাকে সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাফেরার কারণে আটক করে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সাথে কোন পুরুষকে আটক করা হয়নি। এ বিষয়ে  হরিণাকুন্ডু থানার এএসআই কামরুল ইসলাম বলেন ওই বাড়িতে অপরিচিত দুই নারী বসবাস করছে। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক এলাকাবাসির এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুই নারীকে আটক করা হয়। সূত্র আরো জানায় এএসআই কামরুল ইসলাম এর আগেও উপজেলার জোড়াদহ বাজার থেকে আশরাফুল ইসলাম নামের এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করে। বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে পরে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয় কামরুল।  অভিযোগের অন্ত নেই এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে।