Opu Hasnat

আজ ২৩ মে বুধবার ২০১৮,

সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য’র ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শিল্প ও সাহিত্যগোপালগঞ্জ

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য’র ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে  কলকাতার যাদবপুরে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য্যরে জীবন মাত্র মাত্র ২১ বছরের আর লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। সামান্য এই সময়ে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তার রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী। একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি সুকান্ত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় কর্মী। পার্টি ও সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে যে ব্যাধিতে পড়েন, শেষাবধি তাই হয়ে ওঠে তার অকাল মৃত্যুর কারণ।

মূলত প্রগতিশীল চেতনার তরুণ কবি। আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। সুকান্তকে বলা হয় গণমানুষের কবি। তার রচনার মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

তার পূর্বপুরুষদের নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে। সুকান্ত’র জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে মামা বাড়িতে। জন্মের আগেই তার পূর্বপুরুষেরা গোপালগঞ্জ ছেড়ে ভারতে যান।

দীর্ঘ দিন কবির পরিবার কলকাতায় অবস্থান করায় তার পূর্ব পুরুষের ভিটাটি বেদখল হয়ে যায়। দীর্ঘকাল বেদখল থাকার পরে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবির পৈত্রিক বাড়িটি দখল মুক্ত হয়। এরপর দীর্ঘ দিন শূন্য অবস্থায় পড়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জেলা পরিষদ কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন। এখানে কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর মার্চ মাসে একটি মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোন বছরই বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না। এ ব্যাপারে অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বুলু বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরতে হলে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে জাঁকজমক করে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা উচিৎ। শুধু বাৎসরিক একটি মেলা করে জাতির কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরা সম্ভব নয়।