Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট রবিবার ২০১৮,

নড়াইলে গৃহবধূ ও তার ভাইদের অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ নড়াইল

নড়াইলে গৃহবধূ ও তার ভাইদের অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ

নড়াইলের আদালতে স্বামীর দায়ের করা মামলার জামিন নিতে এসে শিউলি বেগম নামে এক গৃহবধূসহ তার পরিবারের লোকজনকে ফিল্মি স্টাইলে বাদীপক্ষের লোকজন  অপহরণ করে নিয়ে যায়। শহরের মহিষখোলা গ্রামের এক প্রভাবশালীর বাড়িতে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা আটকে রেখে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালে নড়াইল আদালতে স্বামীর দায়েরকৃত হয়রানীমূলক মামলার জামিন প্রাপ্তির পর এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ। পরে ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে স্থানীয় এক ইউপি চেয়রম্যানের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধূকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, জেলার সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আছাদ মাস্টারের ছেলে মাহফুজুর রহমান চঞ্চলের সঙ্গে সদর উপজেলার পূর্ব বালিয়া ডাঙ্গা গ্রামের আঃ রাজ্জাক ভূইয়ার মেয়ে শিউলি বেগমের ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর বিবাহ হয়। এরপর স্ত্রী শিউলি বেগমের বিনা অনুমতিতে ফরিদপুরের নগরকান্দায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্ব›দ্ব ফ্যাসাদ ও মামলা মকদ্দমা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালে নড়াইল আদালতে স্বামীর দায়েরকৃত হয়রানীমূলক মামলার জামিন নিতে আসে স্ত্রী শিউলি বেগম, তার ভাই প্লিজ ও জসিম। বিজ্ঞ আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুরে ১২ টার দিকে  আদালত থেকে বেরিয়ে এসে তাদের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আররাফ হোসেনের চেম্বারে বসেন তারা। এ সময় মামলার বাদী ও গৃহবধুর স্বামী মাহফুজুর রহমান চঞ্চল (২৯)’র নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে শিউলি বেগম ও তার ভাইদের অপহরণ করে মহিষখোলা এক প্রভাবশালীর বাড়িতে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা আটকিয়ে রেখে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এ বিষয়ে তার পরিবারের লোকজন পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর তারা ৩টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখেন। পরে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পলাশ মোল্যার হস্তক্ষেপে তাদের মুক্ত করা হয়। উদ্ধার করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গৃহবধূকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিউলি বাদী হয়ে ৩ জনকে আসমী করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। 

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী শিউলি বেগম বলেন, ‘আদালত থেকে জামিনের পর আমার অ্যাডভোকেট আররাফ হোসেনের চেম্বারে জামিন নামায় স্বাক্ষর করতে বসা মাত্রই আমার স্বামী মাহফুজুর রহমান চঞ্চল তার লোকজন নিয়ে  চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে তাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত আটকে রেখে আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এরপর আমার আইনজীবী ও আত্মীয় স্বজন পুলিশকে অবহিত করলেও তারা এগিয়ে আসেননি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া সত্বেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা পুলিশ। 

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন জানান,  তিনি কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’