Opu Hasnat

আজ ২৩ মে বুধবার ২০১৮,

কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ও সোহাগ সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা

রাজাপুরে ১ টি লাইসেন্সে ৭টি ফার্মেসী স্বাস্থ্যসেবাঝালকাঠি

রাজাপুরে ১ টি লাইসেন্সে ৭টি ফার্মেসী

রাজাপুরের ক্লিনিক ও ফার্মেসী মালিক আহসান হাবিব সোহাগ। তার বাবা ফজলুল হক রাজাপুর হাসপাতালের সামনে ফার্মেসী ব্যাবসা শুরু করেন ৯৬ সনের দিকে। পরবর্তীতে ইসলামীয়া ফার্মেসী নামক ঐ প্রতিষ্ঠানটির হাল ধরেন সোহাগ। তবে সোহাগের  মধ্যে ছিলো সম্পূর্ণ ব্যবসায়ী চেতনা। অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার মিশন শুরু করেন তিনি। একটি ড্রাগ লাইসেন্স দিয়ে সম্পুর্ণ অবৈধ ভাবে তিনি একে একে ৭ টি ফার্মেসী ব্যবসা খুলে বসেন। পাশাপাশি সোহাগ ক্লিনিক, আল কায়েদ ক্লিনিক এবং সোহাগ চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। যার বৈধ কোন  কাগজ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

সুত্রমতে জানাগেছে, বাংলাদেশের যে সকল ঔষধ কোম্পানির এন্টিবায়টিক মেডিসিন তৈরির অনুমতি নেই যেমন- হলমার্ক, কুমুদিনি, আদদিন এবং বাকফো। এ সকল কোম্পানীর অবৈধ এন্টিবায়টিক গোপনে এনে রোগীদেরকে চাপিয়ে দিচ্ছে সোহাগের ক্লিনিকে। গত বছরের প্রথম দিকে সোহাগ ক্লিনিকের ভুয়া চিকিৎসক আবুল খায়ের চৌধূরীকে আটক করেছিল র‌্যাব-৮ রবিশাল। এর ৩ মাসের ব্যবধানে আরেক ভুয়া চিকিৎসক আক্তারুজ্জামানও র‌্যাবের হাতে আটক হয়। রাজাপুরের সোহাগ ক্লিনিকে ১০ শয্যার অনুমতি থাকলেও তা এখন ১০০ শয্যায় উন্নিত করেছে যা সম্পুর্ণ অবৈধ। 

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি রাজাপুর উপজেলা শাখা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এসময় সমিতির সাধারন সম্পাদক মতিয়ার রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত পত্রে আহসান হাবিব সোহাগের বিরুদ্ধে উঠে আসে এন্তর অভিযোগ। এতে আরো বলা হয়, সোহাগের ক্লিনিকে অবৈধ অস্ত্রপচার থেকে  শুরু করে বিভিন্ন সময়ে হাতুরে ডাক্তার দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করা হয়। ইতিমধ্যে ভুল চিকিৎসার কারনে একাধিক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী রোগীর করা মামলায় সোহাগ এবং এবং তার ক্লিনিকের অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। অপচিকিৎসা করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই ক্লিনিকটি একবার বন্ধ করে দেয়াও হয়েছিলো। অপচিকিৎসা, অবৈধ ফার্মেসী এবং নিষিদ্ধ ঔষধ বিক্রি করে শুন্য থেকে কেটিপতি বনে গেছেন এই সোহাগ। 

অপরদিকে সোহাগ ক্লিনিক ও ফার্মেসীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুবিধাভোগীরা। সোহাগ ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আহসান হাবিব সোহাগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ও স্বল্প মূল্যে ঔষধ বিক্রয়ের দায়ে ঔষধ সমিতি কর্তৃক চাপ প্রয়োগ করে ইসলামিয়া ফার্মেসিতে ঔষধ বিতরণ বন্ধ রাখায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রাজাপুর প্রেসক্লাব চত্বরে আহসান হাবিব সোহাগ পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সভাপতি ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মনবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান ডেজলিং তালুকদার, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মোঃ হুমায়ুন কবির হিমু ও আল-কায়েদ ক্লিনিকের পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন মিলন প্রমূখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে আহসান হাবিব সোহাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান। অন্যথ্যায় তারা আরো কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও হুশিয়ারী দেয়। 

এ বিষয়ে আহসান হাবিব সোহাগ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি রাজাপুরসহ পার্শবর্তি এলাকার মানুষকে অল্পখরচে চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এ কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি প্রতিপক্ষ মহল আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর