Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৮,

গোপালগঞ্জে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবাগোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে

গোপালগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। এ সব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বেড না দিতে পারায় বাধ্য হয়ে এসব রোগীদেরকে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। অনেককে আবার রাখা হয়েছে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনের সেডে। গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ জেলার অন্য ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক রোগী আসার কারনে হাসপাতাল গুলোতে ডায়রিয়া রোগে ব্যবহৃত ওষুধ ও স্যালাইন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় ঔষধ সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে ওষুধ কিনছে।

সরেজমিন গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল ঘুরে ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৫টি বেড থাকলেও রোগী রয়েছে ৩৫জন। এ হাসপাতালে গত ১ মে থেকে আজ ৯ মে পর্যন্ত মোট ১১শ  ৯৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন নতুন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বেডের অপ্রতুলতার জন্য সিট সংকুলন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা মেঝেতে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া জেলার কোটালীপাড়া,  টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রুগির মা তাছলিমা বেগম (৩৮) জানান, ভ্যাবসা গরমে আমার শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। অনেক বার বমি ও পায়খানা করায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। এখন রোগী মোটামুটি ভাল আছে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ভর্তি রোগী মাহাবুবুল ইসলাম (৩৫) জানান, আমার বার বার বমি ও পাতলা পায়খানা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে রোগীর অনেক চাপ। ওয়ার্ডের মেঝেতে, বারান্দায় ও বাইরেও রোগীদের বেড দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন ও সামান্য কিছু ওষুধ দেয়া হলেও ইনজেকশনসহ অন্যান্য ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। 

গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যাপক (মেডিসিন) প্রবীর কুমার ব্যানার্জী জানান, হঠাৎ করে ভ্যাপসা গরম ও দুষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া রোগী সংখ্যা বাড়ছে। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে ডায়রিয়া জনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ সময় প্রচন্ড গরম থাকার কারনে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশী। আমরা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরো জানান, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য মুখে খাওয়া স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে তবে কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ একটু কম থাকায় পর্যাপ্ত দিতে পারছিনা। এছাড়া বেডের স্বল্পতা থাকায় সবাইকে বেড দিতে পারছি না।