Opu Hasnat

আজ ১৯ অক্টোবর শুক্রবার ২০১৮,

নড়াইলে বিদ্যালয়ের অনুদানের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! নড়াইল

নড়াইলে বিদ্যালয়ের অনুদানের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

নড়াইল সদর উপজেলার মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগের অনুদানের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার (৮ মে) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য স্বপন কুমার সিকদার ও চিন্ময় দাম। 

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালে এমএলএসএস (দপ্তরী) পদে বিশ্ব রায় কে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের লক্ষ্যে দপ্তরী বিশ্ব রায়ের নিকট থেকে অনুদান বাবদ ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়। বিদ্যালয়ের সভাপতি অজিত বিশ্বাস এ টাকা গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারক বিশ্বাসের নিকট সমুদয় টাকা হস্তান্তর করেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ সভায় এ টাকা বুঝে পাওয়ার কথা স্বিকার করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারক বিশ্বাস। এ টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে তারক বিশ্বাস আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের আয়  ব্যায়ের হিসাব দেয়ার জন্য বার বার সময় নিয়েও তিনি হিসাব দেননি । এ নিয়ে কমিটির সভাপতি অজিত বিশ্বাস সহ অন্যান্য সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। 

সভাপতি অজিত বিশ্বাস জানান, দপ্তরী নিয়োগের অনুদানের ৫ লাখ টাকা শিক্ষক তারক বিশ্বাসের নিকট গচ্ছিত ছিল। তিনি অদ্যবধি ওই টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা দেননি। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তিনি কোন হিসাব দিচ্ছেন না। এ নিয়ে বিদ্যালয় কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সভা ডেকে তাকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না। 

অফিস সহকারি শান্ত মিশ্র জানান, অনুদানের টাকা তারক বিশ্বাসের নিকট ছিলো। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ করেছেন। তবে কোন হিসাব দেননি। বর্তমান প্রধান শিক্ষক মালতি পাঠক জানান, নিয়োগের টাকার বিষয়ে সভাপতি অজিত বিশ্বাস ও শিক্ষক তারক বিশ্বাস ভালো বলতে পারবেন। বার বার সভায় এ নিয়ে কথা উঠলেও নিয়োগের টাকার বিষয়ে তারা চেপে যাচ্ছেন। কোন ভাবেই তাদের নিকট হতে হিসাব নেয়া যাচ্ছে না। সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারক বিশ্বাস দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেও আর্থিক কোন হিসাব দেননি। অভিযুক্ত সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারক বিশ্বাস জানান বর্তমান প্রধান শিক্ষক সবকিছু বুঝে নিয়েছেন। তিনি ইচ্ছাকৃত মিটিং বন্ধ করে রেখেছেন। এমনকি কেউ যাতে হিসাব নিতে না পারে তার জন্য মিটিং আহবান করছেন না। তাছাড়া বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হতে চললেও তিনি নিরব রয়েছেন। তার অর্থ আত্মসাতের বিষয় ফাঁস হওয়ার ভয়ে তিনি এডহক কমিটি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। 

এলাকাবাসি আরোও জানান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মালতি পাঠক দূর্ণীতি, অনিয়ম করায় দীর্ঘ ১০ বছর বরখাস্ত ছিলেন। প্রায় ২ বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ঘুষ দিয়ে চাকুরীতে পুনঃবর্হাল হন। চাকুরী ফিরে পেয়ে তিনি আবারও দূর্ণীতি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রধান শিক্ষক মালতি পাঠক জানান, কর্মচারী নিয়োগের অনুদানের ৫ লাখ টাকা সাবেক প্রধান শিক্ষক তারক বিশ্বাস নিয়েছেন। ওই টাকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এদিকে সচেতন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে অনুদানের অর্থ উদ্ধারে। তাদের অনুরোধে এলাকাবাসির পক্ষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দু’জন অনুদানের ৫ লাখ টাকা উদ্ধারে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অনুদানের অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।