Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৮,

নানা সমস্যায় জর্জরিত হরিণাকুন্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগী! স্বাস্থ্যসেবাঝিনাইদহ

নানা সমস্যায় জর্জরিত হরিণাকুন্ডু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগী!

ডাক্তার নেই। কর্মচারী সংকট। পাওয়া যায় না রোগীর ওষুধ। সর্ব ক্ষেত্রে নেই নেই দশা ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ৩০ জন ডাক্তারের মধ্যে আছে মাত্র ৬ জন। এ ভাবে কি জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতাল চলে? চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অহরহ এমন প্রশ্ন করলেও কোন সমাধান নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩ বছর আগে ২০০৫ সালের ১৭ মে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কাগজ কলমেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে, কিন্তু পরিপূর্ণ সুযোগ সুবিধার বিন্দুমাত্র ছোয়া লাগেনি। হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩০ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত মাত্র ৬ জন চিকিৎসক। ১০ জন কনসালটেন্ট ডাক্তারের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন। উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য ৬ জন চিকিৎসক বড়ই অপ্রতুল। হিসেব মতে ৬৬ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন করে চিকিৎসক নিয়োজিত। এছাড়াও হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সহকারীর ২৯টি পদের বিপরীতে ২১ জন কর্মরত থাকলেও এর মধ্যে ৬ জন এস.আই.টি কোর্সে ঝিনাইদহে অধ্যয়নরত। ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মধ্যে কর্মরত আছে মাত্র ২ জন। ফলে প্রতিনিয়তই উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। হাসপাতালটিতে রয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা। হাসপাতালটির সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গা থাকায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে নিরাপত্তা। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিযে যায় হাসপাতাল চত্ত¡র। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে এখানে সৃিষ্ট হয় জলাবদ্ধতা। এর পরও রয়েছে হাসপাতাল চত্ত¡রে সাধারণ মানুষের গরু ছাগল চরানো ও বখাটের উপদ্রব। নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগী। 

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জামিনুর রশিদ জানান, ডাক্তার সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে বার বার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও ফল হয় না। মাঝে মাঝে কিছু চিকিৎসক দেওয়া হলেও কিছু দিন যেতে না যেতেই মফস্বল এলাকা হওয়ার কারণে তারাও তদবির করে বদলী হয়ে চলে যায় অন্যত্র।