Opu Hasnat

আজ ২৪ মে বৃহস্পতিবার ২০১৮,

খাগড়াছড়ির হরতাল সোমবার থেকে স্থগিত, প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির হরতাল সোমবার থেকে স্থগিত, প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের চলমান ৭২ঘন্টা হরতাল সোমবার থেকে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (৬ মে) বিকেলে বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: পারভেজ আলম সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হরতাল স্থগিতের কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪ঠা মে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত মাইক্রো চালক মো: সজিব হাওলাদারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ১৬ই এপ্রিল অপহৃত তিন ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে টানা ৭২ঘন্টা হরতালের প্রথম দিন পালনের পর সোমবার থেকে পরবর্তি ৬০ঘন্টা হরতাল স্থগিত করা হয়েছে।

একই সাথে সংগঠনটি সরকারের কাছে ৫দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হচ্ছে, অভিলম্বে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মো: সজিব হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি, মো: সজিবের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, অপহৃত তিন বাঙালি ব্যবসায়ীকে উদ্ধারসহ সকল অপহরণের বিষয়ে দ্রুততম সময়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোকে নিষিদ্ধ ও প্রশাসনকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে পার্বত্য এলাকার সকল মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করা।

এদিকে উত্তেজনা-আতংকের মধ্যে মাইক্রোবাস চালক সজিবসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার ও অপহৃত তিন বাঙালি ব্যবসায়ী উদ্ধারের দাবীতে খাগড়াছড়িতে টানা ৭২ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ এ হরতালের ডাক দেয়। হরতালের সমর্থনে বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে। হরতালের কারণে রোববার সকাল থেকে জেলার দুর পাল্লা ও আভ্যন্তরীন সড়কে সকল ধরনের যান বাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকান পাট। সকালে হরতালকারীরা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করতে দেখা গেছে।

হরতাল প্রত্যাহারের জন্য পুলিশ রাতভর নেতাকর্মীদের বাড়ী-ঘরে তল্লাসীর অভিযোগ করলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। তবে হরতালের কারণে কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগের পড়েছে।

রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ছিল পিকেটারদের দখলে। ভোরের আলো ফোটার আগ থেকে হরতালের সমর্থনে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মী। হরতালের কারণে শহরের দোকানপাট ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খোলেনি। দুরপাল্লা ও আভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। হরতালের কারণে কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

বৃহত্তর পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: মাঈন উদ্দিনের অভিযোগ পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বাধা দিচ্ছে। রাতভর নেতাকর্মীদের বাড়ী-ঘরে পুলিশ তল্লাশী চালিয়েছে। 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাহাদাত হোসেন বলেছেন, খাগড়াছড়িতে কোন হরতাল হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে শুক্রবার দুপুরে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি প্রধান সড়কের বেতছড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। নিহত ও আহতরা সকলেই খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

মাত্র ২৪ঘন্টার ব্যবধানে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের ব্রাশ একজন জনপ্রতিনিধি ও অপর আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ ৬জনের নির্মম মৃত্যু পাহাড় জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ধারাবাহিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা রিবাজ করেছে সচেতন মহলেও। তারা এ সংঘাত বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আশংকা করেছেন।

অপরদিকে নিহতের শেষকৃত্য শেষ হলেও তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তবে পরিবারের সদস্যরা হত্যাকান্ডের বিষয়ে মুখ খুলতে না চাইলে পিসিজেএসএস(এমএন লারমা/সংস্কার) রাজনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক বিভূরঞ্জন চাকমা পাহাড়ের সকল হত্যাকান্ডের জন্য প্রসিতের ইউপিডিএফ-কে দায়ী করে তাদের রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধের দাবী জানিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর বিবদমান পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতে প্রায় ৫শতাধিক নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছে। তার মধ্যে চলতি বছরে প্রাণ হারিয়েছে একজন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৮জন। 

খাগড়াছড়ি সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন হরতালের কারণে যাতে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলার মাটিরাঙ্গা থেকে নিখোঁজ তিন বাঙ্গালীর মুক্তি ও মাইক্রোবাস চালক সজীবের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে শনিবার এক কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। সমাবেশে রোববার থেকে ৭২ঘন্টার হরতালের ডাক দেয় সংগঠন দুটি।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির জেলার দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শক্তিমান চাকমা শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বেতছড়ি এলাকায় দুবৃত্তদের ব্রাশ ফায়ারে ৫জন নিহত হন, তার মধ্যে মাইক্রোবাস চালক সজীব ও নিহত হন। এবং গত ১৬ই এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার বাসিন্দা তিন বাঙালি কাঠ ব্যবসায়ী মো: সালাউদ্দীন, মো: বাহার মিয়া(ড্রাইভার) ও মহরম আলী কাঠ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে জেলার মহালছড়ির মাইসছড়িতে গেলে সেখান থেকে নিখোজ হন। ২১দিন পরও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।