Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

পার্বত্য চট্টগ্রাম ফের অশান্ত, ৫ মাসে পাহাড়ে আঞ্চলিক নেতাসহ ২৩ খুন! খাগড়াছড়ি

পার্বত্য চট্টগ্রাম ফের অশান্ত, ৫ মাসে পাহাড়ে আঞ্চলিক নেতাসহ ২৩ খুন!

আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধের জেরে খাগড়াছড়ি ও রাঙগামাটিতে প্রায় দেড়শত পরিবার নিজ বসতবাডি ছেড়ে উদ্বাস্তু

পার্বত্য জেলার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ হত্যার শিকার হলেন, ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) গ্রুপের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা। নিহত হয়েছেন আরো ৫ সহকর্মী। নিহতের তালিকায় রয়েছেন একজন ড্রাইভার বাঙ্গালিও। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মো: সজিব মাইক্রোবাস নিয়ে ভাড়ায় যাচ্ছিলেন। নানিয়ার চর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাসহ ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে নিহত হলেন ৬জন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাত আর কোন্দলে অশান্ত পাহাড়। নতুন করে দানা বেঁধেছে হিংসা ও প্রতিহিংসা। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দল বিভক্তি, আধিপত্য বিস্তার ও মতের ভিন্নতার জেরে পাহাড়ের বিবাদমান দলগুলো জড়িয়ে পড়েছে সংঘাত-হানাহানিতে। প্রত্যন্ত এলাকার পিসিজেএসএস সন্তু লারমা, পিসিজেএসএস-এমএন লারমা/সংস্কার, ইউপিডিএফ, ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিকসহ দল বিভক্তিতে পাহাড়ীদের আশা-আকাংখা সবকিছু ধূলিতসাতের অস্থির হয়ে দেয়ালে পিঠ থেকে গেছেন। নিহত ঘুম, খুন, অপহরণ, গোলাগুলির মত ঘটনায় আরো শংকিত পাহাড়ের সাধারন মানুষ।

অস্ত্র বিরতির মোখিক চুক্তির বোঝাপড়া মাঝখানে বেশ কয়েক বছর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ থাকলেও এখন আবার ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) বিভক্ত হওয়ার পর থেকে দলগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তবে একের পর এক ঘটনা ঘটে গেলেও দলগুলো দায় চাপানোর রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত। শুধু গত ১১ই এপ্রিল থেকে ০৪ঠা মে পর্যন্ত ২৪ দিনে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা নানিয়ারচর ও মারিশ্যাতে খুন হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। এর মধ্যে রয়েছেন একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিও। তবে একটি সূত্র বলছে, খুনের সংখ্যা আরো বেশি হয় কিন্তু প্রকাশ পায়না। ৫টি অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে। বিবাদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও অহরহ ঘটছে প্রতিদিন। যে যার প্রতিপক্ষ তাকে তাক করে গুলি করা প্রতিযোগিতায় নেমেছে সশ্রস্ত্র ব্যক্তিরা। এতে কোন সন্দেহ নেই পাহাড়কে নিয়ে চিন্তা করে ভাল ব্যক্তিত্ব ও উচ্চ শিক্ষিত বিশিষ্ট জনরাও বলির পাথা হতে হচ্ছে।

সর্বশেষ গত ৪ঠা মে খাগড়াছড়ি থকে রাঙগামাটি যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছেন ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) গ্রুপের প্রধান তপন জ্যাতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জন, এর মধ্য খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মাইক্রোবাস চালক সজিবও রয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ৮জন। জানা গেছে এর একদিন আগে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিসিজেএসএস (এমএন লারমা/সংস্কার) গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে একটি মাইক্রোবাস যোগে নানিয়ারচর যাচ্ছিলেন দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। পথিমধ্য খাগড়াছড়ির নানিয়ারচর বেতছড়ি এলাকায়  তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমন করে বসে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে এর একদিন আগে গত ৩রা মে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পিসিজেএসএস (এমএন লারমা/সংস্কার) গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা, এ সময় আরো ১জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র মতে, শক্তিমান চাকমা নানিয়ারচর নিজ বাসভবন হতে বাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ৩ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার ওপর এলোপাতাড়িগুলি করতে থাকে। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন বর্ষীয়ান নেতা এডভোকেট শক্তিমান চাকমা।

গত ২২শে এপ্রিল পানছড়ির মরাটিলা এলাকায় ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপের গুইমারা ও মাটিরাঙ্গা ইউনিট’র প্রধান সুনীল বিকাশ ত্রিপুরা (৪০) প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন। এই ঘটনায় একজন আহত হয়। একই দিন বিকেলে খাগড়াছড়ির জেলা সদরের কমলছড়ি এলাকা দাতকুপ্যা থেকে পিতাপুত্রসহ ৩ জনকে অপহরণের অভিযোগ করেছে ইউপিডিএফ।

এর আগে গত ১৮ই এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার ৪দিনের মাথায় মাটিরাঙ্গার ভাঙ্গামুড়া এলাকা থেকে নতুন কুমার ত্রিপুরা (৩২) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ই এপ্রিল জেলা শহরের পেরাছড়ায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সূর্য বিকাশ চাকমা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৫ই এপ্রিল দীঘিনালা মারিশ্যা সড়কে তপন চাকমা (৪০) ও বিজয় চাকমা (৩২) নামে দুজনকে হত্যার কথা শোনা যায়। কিন্তু লাশ পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে ১১ ও ১২ এপ্রিল জনি তঞ্চঙ্গা (৩২) এবং সাধারণ চাকমা (৪০) খুন হন। গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

এছাড়া গত ১৫ই এপ্রিল বাড়ি ফেরার পথে দীঘিনালা বাস স্টেশন থেকে নিখোঁজ হন খাগড়াছড়ি ক্যান্টমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্র জেরান চাকমা (২১)। ১৬ই এপ্রিল মহালছড়ির মাইছড়ি এলাকায় কাঠ কিনতে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ তিন জন। তারা হলেন কাঠ ব্যবসায়ী মো: সালাউদ্দিন(২৮), একই এলাকার মো: মহরম আলী (২৭) ও ট্রাকচালক মো: বাহার মিয়া। এই ঘটনা উত্তাপ ছড়াচ্ছে পাহাড়ে। পাহাড়ী-বাংগালী সম্প্রীতির বিনষ্টের আশংকা করছেন বিশিষ্টজনেরা। ইতিমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও হরতালের মত কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

অপরদিকে আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধের জেরে খাগড়াছড়িতে ৪০টি গ্রামে প্রায় দেড়শ পরিবার নিজ বসতবাডি ছেড়ে অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু শরনার্থী হয়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ির বর্মাছড়ি, বাইন্যাছোলা, দুল্যাতলী, গুইমারা, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের উদ্বাস্তু ৪৪টি পরিবার বর্তমানে মহালছড়ির সিঙ্গিনালা কুলারামপাড়া হাই স্কুলসহ আশপাশের এলাকায় অন্যের বাসাবাড়িতে বসবাস করছেন। এক কাপড়-চোপড় পড়ে অনেক কর্মী ও সমর্থক নিজ বাড়ির আংগিনায় জিনিস পত্র যে যার অবস্থা আছে, সে অবস্থায় ছেড়ে ফেলে আসতে হয়েছে। অলি-গলি জায়গায় ধান পাকতে শুরু হয়েছে, কিন্তু কাটার লোকজন নেই, আতংকে জনমানব শুন্য। 

মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না নাসরিন উর্মি বলেন, মানবিক কারণে তারা অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার দেওয়া কথাও বলেন ঐ কর্মকর্তা। পাহাড়ের আঞ্চলিক একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকদের হুমকিতে কিছু পরিবার অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত করে পরিবারগুলোকে নিজ বাস্তভিটায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

গত ২০এপ্রিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্বাস্তু অন্য পরিবারগুলো বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে। শুধু তাই নয়, দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়, মাটিরাঙ্গায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ-ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে জানুয়ারি থেকে হিসেব করতে গেলে এই খুন, অপহরণের সংখ্যা আরো বেশি। 

গত ২০১৭খ্রি: ডিসেম্বর থেকে ৫ মাসে পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতা ২৩জন খুন করা হয়েছে। ৫ মাসে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ২৩ জন। হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে ৩৫জন। অপহরন করা হয়েছে ইউপিডিএফ’র হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা দুই নেত্রীসহ ১৭জন। এর বিপরীতে এই সময়ে ৫৯টি বিভিন্ন ধরনে আগ্নেয়াস্ত্র, ২হাজার ৫১৯রাউন্ড গুলিসহ ৫০জনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তারপরও থামছে না পাহাড়ে সংঘাত মৃত্যুর মিছিল।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) শীর্ষ নেতা ও আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ২০১০খ্রি: সালের প্রথম দিকে সংগঠনটি দ্বিধাবিভক্ত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সুধাসিন্ধু খীসা নেতৃত্বে এমএন লারমা/সংস্কারপন্থী বলে পরিচয় দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)র আরেকটি অংশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তখন ‘ইউপিডিএফ’ এর সাথে এমএন লারমা/সংস্কারপন্থী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সম্পর্ক ভালোই কাটছিল। দীর্ঘদিনের সখ্য উবে গিয়ে এই দুই সংগঠনের মধ্যে নতুন করে সংঘাত-সংঘর্ষ, অপহরণের মত ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির সাথে ইউপিডিএফ এর মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত লেগে থাকলেও গেলো দু‘বছরের মধ্যে পার্বত্য চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষের বিবদমান সংগঠন দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হানাহানির ঘটনা কোন ক্রমে ঘটেনি।

২০১৭ সালের ১৫ই নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে তপন জ্যাতি চাকমাকে আহবায়ক ও জালেয়া চাকমাকে সদস্য-সচিব করে ১১ সদস্যের নতুন দল র ‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’’ আত্মপ্রকাশ ঘটে। অন্যদিকে নতুন এই ‘ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক’ সংগঠনকে সেনা সৃষ্ট ‘নব্য মুখোশ বাহিনী’ আখ্যায়িত করে প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন মূল সংগঠন ইউপিডিএফ। এরপর থেকে শুরু হয় সংঘাত। 

নারী নেত্রী ও মানববাধিকারকর্মী নমিতা চাকমা বলেন, পাহাড়ের অপরাজনৈতিক কারনেই এই ঘটনাগুলো অহরহ ঘটছে। এটি অত্যন্ত দু:খজনক ও বেদনাদায়ক। যতদিন পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি অবসান হবেনা, ততদিন এ গুলো থামানো খুবই মুশকিল। সমাধানের উপায় সকলের মাঝে শুভ উদয় হোক এ কামনায় ব্রত করেন। 

মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা ঘটনা গুলোকে অমানবিক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করে বলেন, আমিও নিরাপদ নই, আতংকিত ও হতাশ। তিনি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বন্ধ না হলে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্ট্রগ্রামে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের কাছে জনপ্রতিনিধিরাও অসহায়। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনগণকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। পাহাড়ের বৃদ্ধমান সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি হতে গেলে কারও না করো সমর্থন নিতে হয়, ঠিক তেমনি আমি পিসিজেএসএস (এমএন লারমা/সংস্কার) সমর্থন নিয়ে ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছি। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাংগামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুদার বলেন, বর্তমান চিত্রই পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের গন দাবির ছিল যথার্থতা প্রমান করে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে পাহাড়ে শান্তি আসবে না, মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে না।  

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) এর সদস্য সচিব জালেয়া চাকমা বলেন, প্রসিত খীসার ইউপিডিএফ জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের বুলি আওড়ালেও তারা এখন লক্ষ্যচ্যুত। তারা এখন ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা গণতান্ত্রিক পন্থার পরিবর্তে জোর জবর দস্তিতে দলীয় কার্যক্রম চালাতে চায়। তারা এখন সন্ত্রাসী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার সাড়ে ৫ মাসের মাথায় গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যাতি চাকমা ওরফে বর্মা সংঘাতে নিহত হওয়ায় বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্ব সংকটে পড়বে কি না তা নিয়েও নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-এমএন লারমা/সংস্কার গ্রুপ)’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ‘রক্তপাত করে অধিকার আদায় হবে না। অধিকার আদায় করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে। কিন্তু ইউপিডিএফ (প্রসিত) এতে বিশ্বাসী না বলে পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। আমাদের বহু নেতাকর্মী তাদের হাতে মারা গেছে। অপহৃত হয়েছে। বাড়ি ঘর ও এলাকা ছাড়া হয়েছে।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র প্রসিত খীসার ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র নিরণ চাকমা বলেন, ‘নব্য মুখোশবাহিনী (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) ও পিসিজেএসএস এমএন লারমা/সংস্কার পন্থীরা সেনাবাহিনীর সাথে তাল মিলিয়ে টার্গেট কিলিংয়ে নেমেছে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের একের পর এক হত্যা, অপহরণ করে যাচ্ছে। তাঁরা যদি মনে করে খুন করে ইউপিডিএফ নেতাকর্মীদের দমানো যাবে তাহলে ভুল করবে।’ চলতি বছর ১০জন নেতাকর্মীকে হত্যা ও নারী নেত্রীসহ ১১জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে গত সোমবার (২৩ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি টাউন হলে আয়োজিত এক সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কর্ফোসের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী সমমর্যাদা) ও ২৯৮নং আসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘পাহাড়ের মানুষ এখন ভালো নেই। একের পর সংঘাতের কারণে মানুষ আতঙ্কিত।’ তিনি সবাইকে সজাগ থাকার এবং সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘এসব ঘটনা ঘটার পরও পরিবারগুলো থেকে তেমন কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয় না। তবে কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। আইন শৃংখলা বাহিনী সতর্ক অবস্থা রয়েছি। প্রয়োজনে অভিযানও চালানো হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমনে সরকার আন্তরিকতা এখন বেশি প্রয়োজন। আজ পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নতুন করে ভেবে দেখা দরকার। সমতলে সন্ত্রাস দমনে সরকারের প্রসংশনীয় ভূমিকা রয়েছে। তাহলে কেন? পাহাড়ে অনবরত একের পর এক খুন হবে এমন প্রশ্নে এখন সচেতন সাধারণ মানুষের। সন্ত্রাস নির্মূল এবং অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের সধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংঘাত বন্ধ করে পাহাড়ে শান্তি ধরে রাখতে সবাই একসাথে কাজ করবে, নচেৎ পাহাড়ের পরিস্থিতি আরো ভয়াভহরুপ নিবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করে।