Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

নানিয়ারচর উপজেলার চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা খাগড়াছড়ি

নানিয়ারচর উপজেলার চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপ কেন্দ্রীয় কমিটির (পিসিজেএসএস-সংস্কার) সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৩রা মে) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা পিসিজেএসএস-সংস্কারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়। তবে তিনি অক্ষত আছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুফ’র (পিসিজেএসএস-সংস্কার) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গ্রুপ’র নেতা অর্পন চাকমার নেতৃত্বে এ ঘটনাটি ঘটে। তবে ইউপিডিএফ’র কের্ন্দ্রীয় কমিটির প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন আমরা গনতন্ত্রে আন্দোলনে বিশ্বাসী। এ ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি পিসিজেএসএস দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে ঘটনা থাকতে পারে। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান প্রতিদিনের ন্যায় বৃহষ্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদে তার অফিসে আসার জন্য রওনা করে। অফিস গেইটে ঢোকার সাথে সাথে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর ভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পিসিজেএসএস সংস্কার এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মো: আলমগীর কবির ঘটনাটি স্বীকার করে জানান, আমি শুনেছি নানিয়ারচরে এ ধরণের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নানিয়াচর থানা অফিসার্স ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ রাংগামটি জেলারেল হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের পর পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে।  হয়েছে। ঘটনাস্থল জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির(পিসিজেএসএস-সংস্কার) সহ-সভাপতি এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩রামে) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেএসএস সংস্কার এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। এসময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা পিসিজেএসএস সংস্কারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়। তবে তিনি বিপদমুক্ত আছেন। চেয়ারম্যান শক্তিমান প্রতিদিনের ন্যায় সকালে উপজেলা পরিষদে তার অফিসে আসার জন্য রওনা করে। অফিস গেইটে ঢোকার সাথে সাথে দুর্বত্তরা তাকে লক্ষ করে গুলি ছুড়লে তিনি গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এদিকে ৩রা মে ২০১৮ইং রোজ বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক ১০.৪৫ ঘটিকার সময় এ্যাড. শক্তিমান চাকমা, পিতা: কমলাক্ষ চাকমা (বাত্যা কার্বারী) নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটিরসহ-সভাপতিকে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে গুলি করে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। তার সাথে থাকা নানিয়ারচর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম দেওয়ান, পিতা: মহানন্দ দেওয়ান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, ইউপিডিএফ-এর সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা, সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা, আনন্দ প্রকাশ চাকমা ও রঞ্জন মনি (আদি) চাকমার সিদ্ধান্তে জনসংহতি সমিতির নেতাদের খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রঞ্জনমনি (আদি) চাকমা বর্তমানে ইউপিডিএফ-এর কোম্পানি কমান্ডার। তিনি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ইউনিটে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর লক্কোচ চাকমা, ডাক নাম বাবু চাকমা দলীয় নাম অর্পন চাকমা (কালেক্টর), সাং-দীপু পাড়া মাচালং, ৫নং ওয়ার্ড, ৬নং সাজেক ইউপি একজন সহকারী নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে দুই ঝোলা কাঁধে রেখে এ্যাড. শক্তিমান চাকমাকে খুব সামনে থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের জন্য সন্ত্রাসী ও হত্যাকারী সংগঠন ইউপিডিএফ সরাসরি দায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে এহেন নৃশংস হত্যা কান্ডের তীব্র নিন্দা, ঘৃনা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অনতি বিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানাচ্ছে।

ভবিষ্যতে এহেন নৃশংস ঘটনার পুনরা বৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকার আহবান জানানো হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিদ্রোহীরা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা-সংস্কার) নামে নতুন দল গঠন করেছিলেন। এর আগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন শক্তিমান চাকমা।