Opu Hasnat

আজ ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০১৮,

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামকক্সবাজারনোয়াখালী

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশের উপকূলীয় আঞ্চল।  আজ থেকে ২৭ বছর আগে এই দিনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল “ ম্যারি এন “ নামের  স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। রাতের অন্ধকারে মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, মহেষখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, বাঁশখালী এবং কক্সবাজারে হানা দিয়েছিলো ঘূর্ণিঝড় “ ম্যারি এন “ । এতে বিধ্বস্ত হয় পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের পর চট্টগ্রাম শহরধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়ে  ছিলো । পথের পাশে যেখানে সেখানে পড়েছিল লাশ, রাস্তা জুড়ে ছিল উপড়েপড়া গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ঘর-বাড়িগুলো দুমড়ানো-মোচড়ানো, আর লাশের পচা গন্ধ থেকে থেকে বাতাসটাকে ভারী করে তুলছিল।নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া এবং উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নিঝুমদ্বীপের সব মানুষই জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিলো। পুরো দ্বীপাঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছিলো।ভেলার মতো ভেসে গিয়েছিলো অগণিত মানুষ।

২৫ থেকে ২৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত থেকে ৪ থেকে ৫ মাইল অভ্যন্তরের প্রায় সব মানুষই প্রাণ হারিয়েছিল। সেখানে সেদিন বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ২২০ কিলোমিটার।স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে তৎকালীন এশিয়ার সর্ববৃহত ইস্পাত কারথানা “ চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা লিঃ” পরবর্তী সময়ে আর মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। যা আজ ইতিহাসের পাতায় দৃশ্যমান।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো বেশি। ওইদিন মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। ক্ষতি হয়েছিল পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। এতে বিরাণভূমিতে পরিণত হয় দেশের ১৫ জেলার ২৫৭টি ইউনিয়ন।উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।