Opu Hasnat

আজ ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০১৮,

প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আমেরিকান মেয়ে! ফরিদপুর

প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আমেরিকান মেয়ে!

প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করলেন আমেরিকান শ্যারুন খানঁ (৪০) নামে এক নারী ব্যাংকার। তিনি গত মঙ্গলবার বাংলাদেশী মোঃ আশরাফ উদ্দিন (সিংকু) (২৬) নামে এক যুবককে বিয়ে করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তাদের গত ৬  মাস আগে যা প্রনয়ের মধ্যে গড়ায় বাংলাদেশে এসে বিয়ের মাধ্যমে। আর আমেরিকান মেয়েকে বিয়ের ঘটনায় পরিবারসহ গোটা এলাকা এখন আনন্দে ভাসছে। ঝাকে ঝাকে দেখতে আসছে তাদেরকে। আর এ বিষয়টাকে ধারুন উপভোগ করছেন আমেরিকান মেয়ে শ্যারুন। তিনিও এলাকার সকলকে আপন করে নিয়েছেন একই সাথে সেও সবার খোঁজ নিচ্ছেন। আর ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় সে বলছে  বাংলাদেশের বাংলা কথা।         

ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের সন্তান মোঃ আশরাফ উদ্দিন (সিংকু) পড়াশুনো করেন ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগের মাষ্টার্স শেষ বর্ষে। বাবা মায়ের দুই মেয়ে এক ভাইয়ের ভিতর সে সবার বড় সন্তান। বাবা পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের গাড়ী চালক। সে হিসেবে বাবাকে থাকতে হয় ঢাকায়। তবে তার পরিবার থাকে ফরিদপুর নদী গবেষানা ইনিষ্টিটিউটের ষ্টাফ কোর্য়াটারে।  

এ ব্যাপারে সিংকু জানান, গত ৬মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় আমেরিকান এক প্রথম শ্রেনির ব্যাংকার নিউয়র্কে কর্মরত এক নারীর সাথে। কথা বলার এক পর্যায়ে সে বিয়ে করার কথা জানায় মোঃ আশরাফ উদ্দিন (সিংকু) কে। আর এর ধারাবাহিক কথায় গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশে আসে সে। গত ১০ এপ্রিল তারা বিয়ে করেন ঢাকায় মুসলিম রীতিনীতি মেনে। ধর্মগত ভাবে দুই পরিবার একই হওয়ার কারনে তাদের বিয়ে নিয়ে কোন জটিলতা হয়নি বলে জানান পরিবারের লোকজন। 

তিনি আরো বলেন আমার ও আমার বৌয়ের বয়সের কিছুটা ব্যাবধান থাকলেও আমরা দুজনকে দুজন পেয়ে খুবই খুশি। তারা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমেরিকান শ্যারুন খানঁ বলেন, আমি বাংলাদেশে এসে খুবই ভালো লাগছে। এছাড়া আমার স্বামী তার পরিবার ও এদেশের মানুষসহ গোটা পরিবেশ খুবই ভালো লেগেছে। আশা করছি ২১ তারিখে চলে যাওয়ার পর আমি দ্রুত আবার এখানে ফিরে আসবো। তিনি বলেন আমি বাংলার প্রেমে পড়ে গেছি এর সাথে এদেশের মানুষের।    

এদিকে পরিবারের সকলে এমন ভালো বৌ পেয়ে যেন খুশিতে তারা ব্যাকুল হয়ে উঠেছে। এলাকায় আসার পরে স্থানীয় পাড়া প্রতিবেশী তাদের দেখতে আসছে ঝাকে ঝাকে। সবাই তাদের এই বিয়েকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানান পরিবারের সকলে। 

সিংকুর মা নার্গিস আক্তার বলেন, আমি এতো খুশি এমন বৌ পেয়ে তা বলার নয়। আমার ছেলেকে যদি বাংলাদেশে বিয়ে দিতাম তবেও এতো ভালো বৌমা হয়তো আমি পেতাম না। তিনি বলেন, সে আমাকে আম্মু বলে যে ডাকটি দেয় তাতে আমি নিজেকে গর্ব অনুভব করি। 

প্রতিবেশী মাসুম জানান, আমরা প্রতিবেশী হিসেবে খুবই গর্বিত যে আমাদের প্রতিবেশী সিংকু আমেরিকান এক মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছি। আমরা এখন তাদের দুজনের মঙ্গল কামনা করি সব সময় তারা যেন সুখে থাকে। 

সিংকুর বাবা মোঃ আলাউদ্দিন মাতুব্বর জানান, আমার বৌয়ের অসুখের কথা শুনে সেই সূদুর আমেরিকা থেকে শ্যারুন আমাদের কাছে ছুটে এসেছে। এতে আমরা এতো খুশি হয়েছি তা বলার নয়। এরপর সে বাংলাদেশের সব কিছু দেখে আমাদের দেশের প্রেমে পড়েগেছে। তিনি জানান, শ্যারুন আমার ছেলেকে গত ১০ এপ্রিল বিয়ে করেছে। এখন ওরা দুজনে খুব সুখেই আছে। আমরা বাবা-মা ওদের জন্য দোয়া করি ওরা যেন ভালো থাকে। এছাড়া দেশের সকলের কাছে আমার ছেলে ও ছেলের বৌয়ের জন্য দোয়া চাই ওরা যেন সুখে থাকে।

এদিকে আমেরিকা থেকে শ্যারুন প্রথমে ঢাকায় আসে ৬ এপ্রিল এরপর ঢাকায় ১০ এপ্রিল বিয়ে হয় দুজনের। সেখান থেকে গত দুই তিনদিন আগে আসে ফরিদপুরে। আর এখন তারা ফরিদপুরে তাদের গ্রামের বাড়ী ও শহরের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। তবে খুব দ্রুত তাদের ফরিদপুর থেকে ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।