Opu Hasnat

আজ ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৮,

দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন অকেজো স্বাস্থ্যসেবানেত্রকোনা

দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন অকেজো

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৯বছর ধরে কোন এক্স-রে মেশিন না থাকায় সাধারণ রোগিদের ভোগান্তি চরম আকারে পৌঁছেছে।

এ নিয়ে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের এক্স-রে মেশিনটি ৯ বছর ধরে নষ্ট। হাসপাতালের সামনের ডায়াগোনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে রোগীদের এক্স-রে করাতে হচ্ছে। নানা জটিলতায় প্রায় ৭বছর ধরে ২টি এ্যাম্বুলেন্সও পড়ে আছে। প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে ২৫০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় প্রতিদিনই ২০-২৫ জনকে এক্স-রে করতে হয়। হাসপাতালে এর ব্যবস্থা না থাকায় সব গুলোই বাহির থেকে করাতে হয়। এ ছাড়া আমাদের মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় বাহিরের দোকানীরা ইচ্ছে মতো মুল্য পরিশোধে বাধ্য করছে রোগীদের। ২০০৮ সালে আসা উন্নত মানের মেশিনটি  মাঝে মধ্যে চালু করা হলেও প্রায় ৪বছর ধরে সম্পুর্ন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। দুর্গাপুরে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি ৩০ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালের দোতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও বর্তমানে হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবলও নেই। দীর্ঘদিন ধরে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকায় এখানে প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। হাসপাতালটিতে একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা শূন্য। এছাড়া ১৭জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১জন। এক্স-রে কক্ষটি রয়েছে তালাবদ্ধ। 

উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি নির্মলেন্দু সরকার বাবুল বলেন, এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দরিদ্র রোগীদের। বাইরে বেসরকারি বিভিন্ন রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে অনেক রোগীকে জেলা সদর হাসপাতালসহ বাহিরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। বালিকান্দি গ্রামের দিনমজুর সোবহান মিয়া বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে মাটিতে পড়ে বাঁ হাতে প্রচন্ড আঘাত পান। চিকিৎসক হাতের এক্স-রে করাতে বললে ৪৫০ টাকায় বাহির থেকে এক্স-রে করান। 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব মাঈন উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, আমি বর্তমান কর্মস্থলে নতুন এসেছি, এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।