Opu Hasnat

আজ ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ২০১৮,

ফরিদপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, ১৪৪ ধারা জারি ফরিদপুর

ফরিদপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, ১৪৪ ধারা জারি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর বাজারের হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আর এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৪০ জন। নিহতের নাম মান্নান সিকদার (৬০)। সে ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র। তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এদিকে কৃষ্ণপুর বাজার এলাকায় সকল ধরনের সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রন আনতে রবিবার রাত থেকে ১৪৪ ধারা জারী করে উপজেলা প্রশাসন। এর আগে রোববার বিকালে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ওই বাজারের ৪০টি দোকান ও কয়েকটি বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামীলীগ সমর্থিত কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের পক্ষের সাথে আরেক আওয়ামীলীগ সমর্থক আকতারুজ্জামান তিতাসের পুর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। কৃষ্ণপুর বাজারের হাট ইজারা পান আওয়ামীলীগ সমর্থিত আকতারুজ্জামান তিতাসের লোকজন। আর এই হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির নাখোশ হন চরম ভাবে আকতারুজ্জামান তিতাসের উপর। রবিবার হাটের দিন বাজারে ইজারা তোলাকে কেন্দ্র করে বিকালে উভয় পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় অন্তত ৪০টি দোকানঘর ও বাজার সংলগ্ন কয়েকটি বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনার জেরে সোমবার ভোরে উভয় পক্ষ ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এতে একজনের মৃত্যু হয়। নিহত মান্নান সিকদার আকতারুজ্জামান তিতাসের সমর্থক বলে দাবী করেছেন আকতারুজ্জামান তিতাস ও তার লোকজন।

আকতারুজ্জামান তিতাস বলেন, হাট কৃষ্ণপুর হাটের ডাক পায় আমার লোকজন আর এই ঘটনায় বিল্লাল ফকির মেনে না নিতে পেরে রবিবার হাটের ইজারা তুলতে গেলে আমাদের লোকজনের উপর হামলা চালায়। আবার সোমবার সকালে আমাদের লোকজনের উপর হামলা ও আমাদের একজন লোককে মেরে ফেলেছে। তিনি জানান, এর আগেও আমরা বিল্লাল ফকিরের ব্যাপারে সদরপুর থানায় অভিযোগ করলে তারা কোন কর্নপাত করেনি।   
  
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের সমর্থক হাট ব্যাবসায়ী অবিনাশ বলেন সোমবার সকাল থেকে আমাদের দোকানসহ প্রায় চল্লিশটি দোকানে হামলা চালায় আকতারুজ্জামান তিতাসের লোকজন। তিনি বলেন হাটের ইজারার ঘটনায় আমাদের দোকানে কেন হামলা করলো তারা বুঝলাম না।          

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকে থেমে থেমে দু-গ্রুপের সংর্ঘষ শুরু হয় এসময় পুলিশ সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রনে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  তিনি জানান এখন পরিস্থিতি পুলিশের  নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সদরপুর থানা ও পুলিশ লাইনের ৯ পুলিশ আহত হয়। 

তিনি আরো জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সদরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।