Opu Hasnat

আজ ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ২০১৮,

ঝিনাইদহে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা কৃষি সংবাদঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ঝিনাইদহে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার মোট ৬টি উপজেলায়  ১৪’হাজার ৮’শ ৫৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও আবাদ হয়েছে ১৪’হাজার ৯’শ ২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১’লাখ ১৪’হাজার ৭৬৫ টন। (প্রতি হেক্টর জমি সমান ২৪৭ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৭ বিঘা )।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৩’হাজার ৬’শ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৩’শ ৫০, কোটচাঁদপুরে ৩’হাজার ২’শ ৩০, মহেশপুরে ৬’হাজার ৪’শ ৫০, শৈলকুপায় ৪৫ এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ১’হাজার ২’শ ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে জেলার মহেশপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি এবং শৈলকুপা উপজেলায় সবচেয়ে ভুট্টার কম চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকা এবং রোগ বালাই কম থাকার কারনে ভুট্রার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কম খরচে অধিক ফলন ও  লাভের কারনে কৃষকেরা ভুটা চাষের দিকে বেশী ঝুকে পড়েছে। জেলার অনেক এলাকায় আগাম জাতের ভুট্টা পেকে যাওয়ায় কৃষকরা কাটতে শুরু করেছে। বাজারে এবার ভুট্টার দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে ভুট্টা আবাদ কৃষকদের প্রধান অর্থকারি ফসল হিসেবে রূপ নিয়েছে। ভুট্টা চাষ করতে কৃষকদের অধিক পরিশ্রম করতে হয় না। অল্প খরচে অধিক লাভ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তারা। ভুট্টা মুলত মেক্সিকান ফসল। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে কম্পোজিট জাতের বীজ দিয়ে ভুট্টা চাষ শুরু হয়। ২০০৩ সাল থেকে কৃষকদের ভুট্টা চাষে উদ্ভুদ্ধ করতে থাকেন কৃষি কর্মকর্তারা। বর্তমানে দেশে উন্নতমানের অধিক ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ভুট্টা বীজ পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর যাবৎ ভুট্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা। সে কারণে এ জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে।  

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল গ্রামের আইনাল চৌধুরীর ছেলে কদম আলীর কাছে ভুট্টা চাষ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২’হাজার টাকা। আবহওয়া ভালো থাকার কারনে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে ভুট্টার দাম ভালো যার ফলে অনেক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।  

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সার্বিক নিবিড় তত্বাবধানে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের সার্বিক সহযোগীতায় ভুট্টার আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুট্টা চাষে রোগ বালাই নেই বললেই চলে, খরচের তুলনায় লাভ বেশি, অন্যান্য ফসলের তুলনায় চাষিরা ভুট্টা চাষে লাভবান হচ্ছেন। তাই ভুট্টা চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ জানান, ভুট্টা চাষ করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। তবে সমস্যা হচ্ছে ভুট্টার বীজ শতভাগ হাইব্রিড এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল। যদি দেশীয় কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বীজের যোগান দিতে পারতো তাহলে কৃষকদের উপকার হতো। ভুট্রার চাষ প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন ভুট্টা বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ভুট্টা চাষে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঝুকি বা বাড়তি কোন ঝামেলা থাকেনা। যে কারনে কৃষকরা বেশী বেশী ভুট্টা চাষের দিকে ঝুকে পড়ছেন।