Opu Hasnat

আজ ২২ জুলাই রবিবার ২০১৮,

উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে সকল নাম ফলক বাংলায় লিখতে হবে চট্টগ্রামমুক্তিবার্তা

উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে সকল নাম ফলক বাংলায় লিখতে হবে

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের সমর্থনে শনিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের জাতির এক অপরিহার্য অঙ্গ। বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, বাংলা ভাষা রাষ্ট্র ভাষা হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতি, যে সংস্কৃতি আমাদের অসাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা দেয় তার চর্চায় কোন রাষ্ট্রীয় বাধা নেই। আজ দেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কাজ বাংলায় হচ্ছে। কিন্তু অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের কাজ ইংরেজিতে করছে। তাদের নামফলকগুলোও ইংরেজিতে লিখছে। বাংলাদেশে ব্যবহার হচ্ছে এমন পণ্যের মোড়কে ইংরেজির ব্যবহার হচ্ছে। দেশের গ্রাহকের সবাই বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও নাম ফলক, পণ্যের মোড়কে ইংরেজির ব্যবহার প্রমাণ করছে এরা ইংরেজিকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করছে। এটা ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননার সামিল। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা এখনো অবহেলিত। বাংলাদেশে সংবিধান, আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে সকল নাম ফলক বাংলায় লিখতে হবে। 

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৭ সালে আইন করা হয়েছে সব ক্ষেত্রে বাংলা প্রচলনের নির্দেশনা দিয়ে। ১৯৯৪ সালে হাইকোর্ট এই রায় বাস্তবায়িত করার জন্য সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা মতে- নামফলকের উপরের ৬০ ভাগ বাংলায় লিখতে হবে, নিচের ৪০ ভাগ অন্য যে কোন ভাষায় লেখা যাবে। বিগত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ও চলতি ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে যথাযথভাবে সাইনবোর্ড লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এইসব তথ্য জানিয়ে আমরা প্রচারপত্র বিলি করে অবিলম্বে ইংরেজির উপর বাংলা লেখার আহŸান জানিয়েছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই আমাদের আহŸানে সাড়া দেয়নি। এরই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন ও নতুন প্রজন্মের ছেলেদের সাথে নিয়ে নিউমার্কেট এলাকার কিছু সাইনবোর্ডে কালো কালি লেপন করেছি। এটা করে ইংরেজি সাইনবোর্ডের উপর বাংলা লেখা না থাকলে আমার কি করতে পারি তারই জানান দিয়েছি। কিন্তু এতেও কাজ হচ্ছে না। গত ২ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সরকারের আইন বাস্তবায়ন করার জন্য শহরের প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও এই ব্যাপারে কোন উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় জনগণকে নিয়ে ব্যাপকভাবে মাঠে নামা ছাড়া কোন উপায় নেই। 

মোজাফফর আহমদ বলেন, সরকারের আইন ও হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়িত করতে আমরাই মাঠে নামবো। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই আগামী ১ বৈশাখের পূর্বে ১২ এপ্রিলের মধ্যে সরকারি আইন মেনে বাংলাভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে সকল সাইন বোর্ড লিখতে হবে। উপরে বাংলা থাকতেই হবে। নইলে আমরা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নতুন প্রজন্ম ও জনগণকে সাথে নিয়ে চরম পদক্ষেপ নেব। বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা শুধু মাত্র ইংরেজিতে লেখা বেআইনী সাইনবোর্ডগুলোকে বেছে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের ক্ষেত্র বিস্তৃত করা হবে। আমরা ইংরেজির বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই আমাদের ছেলে মেয়েরা ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করুক। আমরা ইংরেজিকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের কুমানসিকতার বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, মো. নঈম উদ্দিন চৌধুরী, আবু সাঈদ সর্দার, শহীদুল হক চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, এফ.এফ আকবর খান (যুদ্ধাহত), মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সরওয়ার আলম মনি, মহানগর শাখার আহ্বায়ক মশরুর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ মুরাদ সাকু, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সজীব, সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন আজাদ, আবদুল হাসান হান্নান, সৈয়দ ওমর প্রমুখ। 

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শামসুদ্দিন, মো. হেলাল উদ্দিন, ছালামত উল্ল্যাহ, আবদুল হাফেজ, নুর আহামদ, শামসুল হক, মো. ইউসুফ, লিয়াকত হোসেন, আবুল কাশেম, শম্ভু দাশ, মো. এয়াকুব, ওবাইদুল হক চৌধুরী ও মহানগরীর থানা কমান্ডারগণ।