Opu Hasnat

আজ ২২ জুন শুক্রবার ২০১৮,

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিনোদনচট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে (চবি) যেমন রূপসী করে তুলেছে। তেমনি এই ক্যাম্পাসের অন্যতম অংশ শাটল ট্রেনকে করেছে গৌরবান্বিত। এই শাটল ট্রেন বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরে পাল্টেছে অনেক কিছু। পাল্টেছে মানুষ, পাল্টেছে অবস্থা। প্রতিষ্ঠাকালীন যাতায়াতের কোনো সু ব্যবস্থা না থাকলেও ১৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয় শাটল ট্রেন। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যার চলাচল স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। ৩৬ বছর নিয়ম করে চলছে এই স্বপ্ন বহনের যাত্রা। কেন জানি ক্লান্তির লেশ মাত্রও চোখে পড়ে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল নিয়ে গান, কবিতা, টেলিফিল্ম, নাটক তৈরি হলেও এতদিন সিনেমা তৈরি হয়নি, অবশেষে তাও হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রদীপ ঘোষ শাটল ট্রেন নিয়ে তৈরি করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্র। যার নাম দিয়েছেন ‘শাটল ট্রেন’।

চলচ্চিত্রের নির্মাতা প্রদীপ ঘোষের বলেন, বিশ্বে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য নিজস্ব ট্রেন আছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তা অন্য কোথাও তেমন একটা নেই। এখানে পাহাড় আছে, ঝর্ণা আছে। এগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে মূলত এই চলচ্চিত্র নির্মাণ করা।

জানা যায়, ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহেছিনা ঝর্ণার ‘বহে সমান্তরাল’ বই থেকে। পহেলা ফাল্গুন চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়ে ইতোমধ্যে ২ দফা শুটিং শেষ হয়েছে। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত ঋতুতে আরও কয়েক দফায় শুটিং করা হবে। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের গণঅর্থায়নে। এতে যারা অভিনয় করছেন তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

বিশ্বের মাত্র দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব ট্রেন ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে তার একমাত্র দাবিদার চবি। কিছুদিন আগে সানফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শাটল ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দেয়। এই শাটল ট্রেনকে বলা যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণভোমরা। আর এই শাটল ট্রেনের বগিগুলোর রয়েছে বিচিত্র সব নাম। যেমন : উল্কা, ভিএক্স, সিএফসি, একাকার, এপিটাফ, সাম্পান, কনকর্ড-ইউরেকা, খাইট্টা খা, ককপিট, ফাইটক্লাব, মহাপাপী, সিক্সটি নাইন, অলওয়েজ, বিজয় ইত্যাদি। যেখানে চলে মজার সব গান যেমন ‘ল ফ্যাকাল্টির মেয়েদের বিয়া করিস না আইনের প্যাচে ফালাই দিব বাঁচতে পারবি নাৃ.’ অথবা ‘তুমি থাক লেডিস হলে আমি থাকি শাহ জালালে’।

প্রতিটি বগিতে আছে নিজস্ব বাদক ও গায়কদল। এই খ্যাত-অখ্যাত গায়ক ও বাদকদল প্রতিদিন আসা যাওয়ার সময় ট্রেনের দেয়াল চাপরিয়ে উচ্চস্বরে গান গেয়ে সারা বগি মাতিয়ে রাখে। সর্বোপরি, এসব শাটল সিঙ্গারদের সুরের মূর্ছনায় মুখরিত থাকে শাটল ট্রেন। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কথা না বললেই নয়। শাটল ট্রেন হচ্ছে প্রেমিক যুগলদের জন্য নিরাপদ ও অবাধ জায়গা। প্রেমিক-প্রেমিকাদের ক্লাস মিস হলেও শাটল ডেট কখনো মিস হওয়ার নয়। প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা আগেভাগে এসে সিট দখল করে রাখে এবং তার প্রিয়মুখের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। পাহাড়ি ও গ্রাম্য আকাবাঁকা পথ বেয়ে হেলেদুলে চলতে থাকা শাটল ট্রেনের দুলুনি এবং শাটল সিঙ্গারদের সুরমূর্ছনায় প্রেমিকযুগলদের পার হয় এক অসাধারণ রোমান্টিক মুহূর্ত।

এত ভিড় ও হৈচৈয়ের মধ্যেও এমন কিছু মানুষ আছে ব্যতিক্রম। যাদের কাছে বই একমাত্র সম্বল। এতসব কোলাহলের ভিতরেও যথারীতি গভীর মনোযোগের সাথে বইয়ের পাতায় ডুবে যায়। দেখা যায় এ বিদ্যাসাগররা হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারী।

সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, আশা, ভালোবাসা শব্দগুলো যেমন একটির বিপরীত অথবা সমার্থক ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শাটল ট্রেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একই রকম।

প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে চাটগাঁ শহরের সদ্য ফোটা স্বপ্নগুলোকে নিয়ে পাহাড়ঘেরা বিদ্যানিকেতনে রেখে যান যাতে স্বপ্নের বাস্তবিক রূপ পাওয়া যায়। স্বপ্ন আনা-নেওয়ার ফেরিওয়ালা স্বপ্ন নিয়ে এত খেলা করলেও এতটুকু অহংকার নেই তার। নীরবে যেন চিৎকার করে বলছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখী।