Opu Hasnat

আজ ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০১৮,

প্রতিষ্ঠালগ্নেই কোন পথে হাঁটছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ! মতামত

প্রতিষ্ঠালগ্নেই কোন পথে হাঁটছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় !

২৫ বৈশাখ, ১৪২২ বঙ্গাব্দ, ০৮ মে, ২০১৫ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শাহজাদপুর তথা সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়।

১১ জুন, ২০১৭ ইং তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দান করা হয়। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির পরিবর্তে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। 

ভিসির নিয়োগপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কর্তাব্যক্তি হিসেবে সার্বৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কথা থাকলেও নিয়োগ লাভের পর থেকে এ পর্যন্ত হাতে গোনা দু-একবার এসে আবার ফিরে গেছেন তড়িঘড়ি করেই। ঢাকার ধানমন্ডিতে একটা লিয়াঁজো অফিস ভাড়া নিয়ে দিব্যি বসে অফিস করছেন এবং নিয়মিত টিভি টকশোসহ ব্যক্তিগত কর্ম সম্পাদন করছেন। বিশেষসূত্রে জানা গেছে যে, মন্ত্রনালয় থেকে দুইশ একর জমি বরাদ্দ হলেও সেই বরাদ্দকৃত জমি গ্রহন ও রক্ষণাবেক্ষনের কোন তৎপরতা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি পরীক্ষা শাহজাদপুর না হয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায় যা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে সৃষ্টি হয়েছে দারুন ক্ষোভ। গত ২৫ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়েও প্রায় একই রকম খবর বেড়িয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রথম শিক্ষক নিয়োগেও দেখা গেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি। শিক্ষক নিয়োগের আবেদন বাছাই বোর্ডেও রয়েছে অনিয়ম এবং অনেক যোগ্য প্রার্থীদেরকে ভাইভা কার্ড ইস্যুই করা হয়নি।

ভিসি মহোদয়ের পছন্দের প্রার্থীদেরকে নিয়োগ দানের জন্য পছন্দমতো ব্যক্তিবর্গকে এক্সপার্ট নিয়োগ করে ঢাকাতেই ভাইভা বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগে ভিসি মহোদয়ের পছন্দের একজন অযোগ্য প্রার্থীকে ভাইভা বোর্ডে সিলেকশন দেওয়া হলে তা আবার বাদ দেওয়া হয়েছে সিন্ডিকেটের অনুমোদনে। ফলে ঐ বিভাগে ০১ জন শূন্য পদ রেখেই নিয়োগ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। 

খবর নিয়ে জানা গেছে ঐ প্রার্থীরঅন লাইন ভিত্তিক ভূয়া বিদেশী ডিগ্রী বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গ্রান্ড না করায় ঐ প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা হলে প্রশ্ন থাকে এ ধরনের প্রার্থীকে ভাইভা বোর্ডে কিভাবে সিলেকশন দেওয়া হলো! নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রার্থী বলেন সার্কুলারে বর্ণিত সকল যোগ্যতা পূরন ও তিনটিতে প্রথম শ্রেণী থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সিরাজগঞ্জের প্রার্থী হওয়ার কারণে ভালো ভাইভা দিয়েও আমাকে সিলেকশনে রাখা হয়নি।

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগে দুইটিতে নামমাত্র প্রথম শ্রেণী নিয়ে জার্নাল নামক রক্ষা কবচ ব্যবহার করে ভিসি মহোদয়ের পছন্দের প্রার্থীকে ঐ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোন আর্থিক লেনদেন হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। সিরাজগঞ্জের কোন জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগনকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে রাখা হয়নি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যোগ্য প্রার্থীদেরকে সম্পূর্নরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠালগ্নেই এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বিশিষ্টজনদের মধ্যে।

লেখক : মোঃ শাহিন আকতার
শিক্ষক ও গবেষক