Opu Hasnat

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম

সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল মান্নান  বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষাই হচ্ছে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মূল ভিত্তি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের ৫ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার হার ক্রমাগত বেড়ে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একসময় ৮০%শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে পড়া লেখা থেকে ঝড়ে পড়তো। কিন্তু এখন ঝড়ে পড়ার হার ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। 

দেশের সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক নগরীর পিটিআই মাঠে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্য তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় অন্যান্য পরীক্ষার সাথে সংযোজন করা হয়েছে পিইসি পরীক্ষা। এটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গৌরবের একটি সার্টিফিকেট পরীক্ষা। আমরা এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যেম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছি। উন্নয়ন মূলক দেশে অশিক্ষিত মানুষ থাকা অন্যায়। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারসহ বিভিন্নস্তরে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নসহ আগামী ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের ১৭টি লক্ষ্য নিয়ে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছি। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটাতে হবে। 

মেলার ষ্টলের প্রশংসা করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শিক্ষা মেলা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মেলায় কোন ধরণের জিনিসপত্র বিকিকিনি না হলেও শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের প্রশ্ন খুঁজে পাবে। নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পড়া লেখা করালে প্রাথমিক শিক্ষার ভীত মজবুত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। 

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনায় সারা দেশে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ পালন কালে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোন শিক্ষার্থী  ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে পড়লে এর জন্য শিক্ষকরাই দায়ী থাকবেন। বিদ্যালয়ে ভাল শিক্ষার্থী তৈরী করতে হলে শিক্ষকদেরকে বেশি বেশি করে পড়তে হবে, জানতে হবে, নতুন নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে সম্মক ধারণা দিতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিজের সন্তান মনে করে পাঠদান দিতে শিক্ষকদের আন্তরিক হতে হবে। তাহলে এই প্রজন্মের সন্তানেরা আগামীতে দেশের যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। 

প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সুলতান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষিকেশ শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরীন সুলতানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম পিটিআই সুপার কামরুন্নাহার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের পূর্বে শিক্ষা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল মান্নান। সবশেষে শিক্ষা মেলায় আগত বিজয়ী স্টল প্রধান/কর্মকর্তাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি। মেলায় আগত বিভিন্ন উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্টলগুলোর মধ্যে বিচারকদের রায়ে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্টল- ১ম, সীতাকুন্ড উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্টল-২য় ও বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্টল-৩য় বিজয়ী হন। মেলায় বিভাগীয় ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সবশেষে শিক্ষা মেলা উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।