Opu Hasnat

আজ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

আলমডাঙ্গায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত নারী ও শিশুচুয়াডাঙ্গা

আলমডাঙ্গায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষিত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারকে আটকে রেখেছে প্রভাবশালী ধর্ষক ও তার লোকজনেরা। তারা অসুস্থ কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছে না বলে মেয়েটির পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশের সহযোগীতায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল স্থানীয় কাশেম (৫০)। মেয়েটির মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য মেয়েটির বাবা প্রায়ই হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। সে সময় মেয়েটি একা থাকতো বাড়িতে। কাশেম সে সুযোগে মেয়েটিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে এসেছে। মেয়েটি সে কথা কাউকে বললে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ করে এসেছে অভিযুক্ত কাশেম। প্রাণ ভয়ে এতদিন মেয়েটি কাউকে কিছু বলেনি। পরে ধর্ষণের শিকার যুবতী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। তাকে তার দরিদ্র বাবা-মায়ের কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায় কাশেম। গত শনিবার হরিনাকুন্ডু সদর হাসপাতালে গর্ভপাত ঘটাতে গেল অপরিণত জীবীত শিশু জন্ম নেয়। কিন্তু মায়ের কোল থেকে জীবিত কন্যা শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান। হাসপাতালে তিনজন নার্সের সহযোগীতায় মনিরুজ্জামান শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। গর্ভপাতের পর তাকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণে অসুস্থ মেয়েটি বাড়িতে স্যালাইনের ওপর ভরসা করে চিকিৎসা নিচ্ছিল।
      
নির্যাতিতা মেয়েটির মা জানান, স্বামীর বন্ধু হিসেবে একই গ্রামের ইব্রাহীম আলীর ছেলে কাশেম তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। প্রায় ৯ মাস আগে চিকিৎসার জন্য তারা স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলে তার মেয়ে দাদির সাথে বাড়িতে একা ছিল। ওই রাতেই কাশেম গলা টিপে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তার মেয়ের সর্বনাশ করে। অতটুকু মেয়ে কাশেমের ভয়ে মুখ ফুটে তাকে কিছু জানায় নি। 
      
নির্যাতিতা মেয়ের বাবা জানান, আমরা অত্যন্ত গরিব। গ্রামে আমাদের কেউ নেই বললেই চলে। প্রভাবশালী কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামান লোকজন দিয়ে আামদেরকে বাড়ির ভেতর থেকে বের হতে দিচ্ছিল না। মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারছিলাম না। গ্রাম্য ডাক্তারই ছিল শেষ ভরসা। পরে পুলিশের সহযোগীতায় মেয়েটিকে সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
        
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। গর্ভপাত ঘটানোয় মেয়েটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক বলেও জানিয়েছে চিকিৎসক।  
 
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম ও তার বড় ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।