Opu Hasnat

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

মাহমুদুর মাকে বলেছিলেন খুব দ্রুত আবার বাড়ী আসবেন ফরিদপুর

মাহমুদুর মাকে বলেছিলেন খুব দ্রুত আবার বাড়ী আসবেন

মাহমুদুরের শেষ আসা বাড়ীতে এই বছরের জানুয়ারী মাসের ১৩ তারিখে। সে সময় বাড়ী থেকে যাওয়ার সময় মাকে বলে গিয়েছিলেন খুব দ্রুত আবার তাকে দেখতে আসবেন। বিলাপের সুরে বার বার এই কথাই বলছিলেন তার মা লিলি বেগম। প্লেন দূর্ঘটনায় তার এই বাড়ী আসার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে গেছে। সংসারের এমন উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে আজ যেন বড্ড বোবা হয়েগেছেন পরিবারের সকলে।   

ফরিদপুরের ছেলে এস এম মাহমুদুর রহমান রিমন (৩২) চাকুরী করতেন রানার গ্রুপের রানার অটোমোবাইলস কোম্পানীর তেজগাঁও অফিসের হেড অব সার্ভিস পদে। সেই সুবাধে ঢাকায় থাকা। অফিসের কাজে সোমবার উড়াল দিয়েছিলেন নেপালের উদ্দেশ্য। কে জানতো আর ফিরে আসা হবে না তার নিজ মাটিতে। তার বাড়ী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে। পিতার নাম মশিউর রহমান মা বাবার দুই ছেলের মধ্যে সে ছিলো সবার বড়। বিয়েও করেছেন প্রায় সাত বছর আগে। তার স্ত্রীর নাম সানজিদা বেগম ঝর্না। তারা থাকতেন বাসা ভাড়া করে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জে।    

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়ীতে গিয়ে দেখা গেল তার মা লিলি বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। একমাত্র ভাই রুপম বাকরুদ্র হয়ে পেেড়ছেন। আর কোন কথাই বলতে পারছেন না তারা বাবা মশিউর রহমান। গ্রামের এমন যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলে হারিয়ে গ্রামের মানুষও শোকে মূর্হমান হয়ে পড়েছেন।        

সোমবার নেপালে বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়াদের তালিকায় তার নাম নেই বলে জানালেন পরিবারের লোকজন। 

তার চাচা শাহ মোঃ আফতাব উদ্দিন জানান, গত দুই মাস আগে সে বাড়ী এসেছিলো। এরপর আর আসা হয়নি নানা কাজের কারনে। তিনি জানান, সে ছিলো পরিবারের আয়-উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি তার টাকাই চলতো সংসার। এখন আর এই পরিবারের আয়-উপার্জনের কেও থাকলো না এই বলে ঢুকরে কেদেঁ উঠলেন তিনি।  

উল্লেখ্য, ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার ড্যাশ উড়োজাহাজটি।