Opu Hasnat

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয় খেলাধুলা

টাইগারদের অবিস্মরণীয় জয়

টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের রেকর্ড গড়া অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়, অবিস্মরণীয় এক জয় পেলো বাংলাদেশ। টার্গেট ২১৫ রান। পারবে তো বাংলাদেশ! অনেক প্রশ্ন। প্রশ্নটা আসছিল কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে এতো রান করেনি বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৯৩। কিন্তু নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে  শ্রীলঙ্কার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দুই বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিলো টাইগাররা। ২১৫ রান করে আজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ।

সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়। আর দুই ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কার এটি প্রথম হার।

ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল নয় রান। এসময় ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলিংয়ে ছিলেন থিসারা পেরেরা। ওভারের প্রথম বল থেকে দুই রান নেন মুশফিকু রহিম। দ্বিতীয় বলে চার মারেন তিনি। তৃতীয় বল থেকে নেন দুই রান। চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মুশফিকুর রহিম।

২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিধ্বংসী সূচনা করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর লিটন দাস।

উদ্বোধনী জুটিতে ৫.৫ ওভারেই তারা তুলে ফেলেন ৭৪ রান। অবশেষে ১৯ বলে ২ চার আর ৫ ছক্কায় ৪৩ রান করে নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান লিটন। ভেঙে যায় বিধ্বংসী জুটিটা।

ফিফটির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। ব্যাটে ঝড়ও চলছিল। হঠাৎ থিসারা পেরেরার বলটা বুঝতে না পেরে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দিলেন এই ওপেনার। ২৯ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তার ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংসটা থেমেছে তাতেই। এরপর হাফ সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর রহিম। ৩৫ বল খেলে ৭২ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে তিনি পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে আজকের ইনিংসটিই তার সেরা।

অন্যদিকে, ১১ বলে ২০ রান করে আউট হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান প্রদীপ ২টি, দুশমান্থ চামিরা ১টি ও থিসারা পেরেরা ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লঙ্কানরা কুশল মেন্ডিস আর কুশল পেরেরার ঝড়ে প্রথমে ব্যাট করে তুলে ৬ উইকেটে ২১৪ রান।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলঙ্কা। উদ্বোধনী জুটিতে ৪.২ ওভারেই ৫৬ রান তুলে ফেলেছিল চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। অবশেষে বিধ্বংসী এই জুটিটা ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্যাম্পই উড়ে যায় ২৬ রান করা দানুষ্কা গুনাথিলাকার।

এরপর কুশল মেন্ডিস আর কুশল পেরেরা- দুই কুশল মিলে বাংলাদেশি বোলারদের উপর ভালোই তাণ্ডব চালিয়েছেন।

দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৮৫ রানের জুটি। অবশেষে এই জুটিটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের ১৪তম ওভারে টাইগার অধিনায়কের বলে সাব্বির রহমানের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৩০ বলে ৫৭ করা কুশল মেন্ডিস।

একই ওভারে দাসুন শানাকাকে শুন্য রানে আউট করে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়েছেন রিয়াদ। এই ক্যাচটিও নেন সাব্বির। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ সাব্বিরের। এবার আউট ২ রান করা চান্দিমাল। তবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলেও লঙ্কানদের রানের গতি আটকাতে পারেনি টাইগাররা।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজকে খেলতে গিয়ে বল উপরে তুলে দেন কুশল পেরেরা। উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহীমের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ৪৮ বলে ৭৪ রান করা এই ব্যাটসম্যান। একই ওভারে এক বল পরই থিসারা পেরেরাকে শুন্য রানে নাজমুল অপুর ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। উপুল থারাঙ্গা অপরাজিত ছিলেন ১৫ বলে ৩২ রানে।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে টস হতে পারেনি। ১৫ মিনিট বিলম্বে টস হয়। বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা দুই দলই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে।