Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন মঙ্গলবার ২০১৮,

কিডনি দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পস এর বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা স্বাস্থ্যসেবা

কিডনি দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পস এর বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

বেসরকারী সেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস), রেনাল এসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন যৌথ ভাবে বিশ্ব কিডনি দিবস ২০১৮উদযাপন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করে যা ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স প্রাঙ্গনে থেকে শুরু হয়ে মৎসভবন ঘুরে আবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইস্টিটিটিউটএ শেষ হয়। র‌্যালি শেষে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “কিডনি এ্যান্ড উইমেন হেলথ : ইনক্লুড, ভ্যালু, এমপাওয়ার”। 
 
র‌্যালি শেষে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের অঅয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ রফিকুল আলম। প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় তথ্য প্রতি মন্ত্রী তারানা হালিম। 
 
তারানা হালিম বলেন, নারিদেরকে স্বালম্বী করতে হবে তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।বর্তমান সরকার নারিদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৬ হাজার কমিনিউটি সেন্টার গুলোতে যদি প্রাথমিক পরীক্ষা নিরিক্ষা সুযোগ থাকে তবে নারিরা বেশী সুবিধা পাবে।
 
অধ্যাপক ডাঃ হারুন অর রশিদ বলেন, কিডনি রোগ সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে হবে এবং এওয়ারনেস এর আওতায় এনে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
 
অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ বলেন, কিডনি চিকিৎসায় অবহেলিত এবং অবধারিত পরিনতির শিকার নারিদেরকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায় নারীদের মাঝে কিডনি রোগের আধিক্য পুরুষদের তুলনায় বেশী। পক্ষান্তরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে তারা অবহেলিত। বাংলাদেশের নারীদের চিত্র সামাজিক প্রেক্ষাপটে যদি মূল্যায়ন করা হয় তবে দেখা যায় তারা এখনও অনেক পিছিয়ে। পারিবারিক আয়ে সরাসরি নারীদের অবদান কম থাকার জন্য নারীদের স্বভাবজাত রোগ গোপন রাখার প্রবনতা ও রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা এই বৈষম্যের মূল কারণ।
 
তিনি আরো বলেন, এ দেশে অর্ধেকের বেশী নারি, পুরুষদের নারিদের তুলনায় কিডনি রোগ বেশি হয়। অথচ চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে নারিদের তুলনায় পুরুষরা বেশী।
 
কিছু শাররীক জটিলতা ও অবহেলার কারণে শুধু নারীদের ক্ষেত্রে কিডনি রোগের সৃষ্টি করে ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কিডনির সাথে নারীর স্বাস্থ্য নিবীরভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীদের অংশগ্রহন, মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন জরুরী। সমগ্র বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নির্ধারন করা হলেও দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিপাদ্যটি অতিমাত্রায় প্রযোজ্য, সময়োপযোগী এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়বস্তু। যে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী নারী সে দেশের নারীদের অবহেলা করে কিংবা গুরুত্বহীন রেখে আর্থসামাজিক উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়।
 
ডাঃ এম এ সামাদ বলেন, পৃথিবী ব্যাপি কিডনি রোগের প্রাদূর্ভাব অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল বিধায় এদেশের শতকরা ১০ জন রোগী এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন থেকে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। পক্ষান্তরে, একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা।
 
উল্লেখ্য, বিগত ১২ বছর যাবৎ কিডনি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে ক্যাম্পস, রেনাল এসোসিয়েশন, কিডনি ফাউন্ডেশন একই ভাবে পথর‌্যালি আয়োজন করে আসছে। যা সর্বমহলে ব্যাপক সারা তৈরি করেছে।