Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন মঙ্গলবার ২০১৮,

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি নির্ভরশীল হতে হবে চট্টগ্রাম

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি নির্ভরশীল হতে হবে

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৯ বছরে তথ্য প্রযুক্তিতে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রযুক্তির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বহুমুখী উন্নয়ন, মানুষের জীবনমান ও সরকারি সেবা আজ দৃশ্যমান হয়েছে। প্রযুক্তি আমাদেরকে কোন অবস্থানে নিয়ে গেছে তা কল্পনাতীত। তৃণমূল পর্যায়  থেকে শুরু করে সরকারের প্রত্যেকে স্তরে মানুষ ঘরে বসে তাদের কাঙ্খিত সেবা ভোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রযুক্তির মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জন করেছেন তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাচ্ছেন। 

সরকারের ভিশন আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে প্রযুুক্তিতে শতভাগ নির্ভরশীল হতে হবে এবং আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। 

শুক্রবার সকাল ১০টায় নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত  ও অশিক্ষিত মিলে ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। তারা মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনসহ যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছে। এটা ও বর্তমান সরকারের অভাবনীয় অর্জন। বর্তমানে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। ২০১৯ সালের মধ্যে এটি চলাচলের জন্য দৃশ্যমান হবে। আরো অনেক বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আরো বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।  সরকারের ভিশন আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এদেশ মধ্যম আয়ে উন্নীতকরণ, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে দেশের কোন মানুষ আর গরিব থাকবে না। 

তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির ভালো ও মন্দ দুটি দিক রয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশকে তার মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তির ভাল দিকটাকে কাজে লাগাতে হবে। আজকের তরুণ প্রজন্মরা তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করছে। ফলে তারা আজ সমাজের বোঝা নয়। 

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে দুর্নীতি হচ্ছে। কিন্তু এতটা প্রকাশ পেত না। এখন প্রযুক্তির কারণে দুর্নীতি অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে সমাজ থেকে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে সন্তানদের বিরত রাখতে প্রত্যেক অভিভাবকরে প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।  

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নগরীর বাকলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা মুস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল মেলার উদ্বোধনী মেলার প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনির উজ জামান বিপিএম, পিপিএম, জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বিপিএম, পিপিএম ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান। 

আলোচনা সভার পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। সবশেষে মেলার মঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্তী (অতিরিক্ত সচিব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুকুর রহমান সিকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মাশহুদুল কবীর, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াছমিন পারভিন তিবরীজি,  জহুর আহমদ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পরিচালক শরফুদ্দীন চৌধুরী রাজুসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, এবারের মেলায় মোট ১০৯টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১২৫টি স্টল অংশ নিয়েছে। তন্মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৪৩, ব্যাংক ২৫, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৭, আইটি প্রতিষ্ঠান ১০টি, ফুড এন্ড কপি কর্নার ১২টি এবং এনজিওসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৮টি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় তিনদিনব্যাপী মেলার সমাপ্তি ঘটবে। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।