Opu Hasnat

আজ ১৯ জুন মঙ্গলবার ২০১৮,

গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ : ডা. ইফতেখার মো. মুনির স্বাস্থ্যসেবা

গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ : ডা. ইফতেখার মো. মুনির

চোখের যতগুলো অসুখ বা রোগ আছে তার মধ্যে জটিল একটিা রোগের নাম গ্লুকোমা, যার পরিনাম অন্ধত্ব। এই রোগটি কি এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইফতেখার মো. মুনির। তিনি বলেন- গ্লুকোমা চোখের জন্য একটি জঠিল রোগ। চোখের প্রেসার যদি বেশি বেড়ে যায় তখন আমরা তাকে হাইপার টেনশন বলি । চোখের ভিতর একটা প্রেসার আছে যা সাধারণত দশ থেকে একুশ মিলি মিটার থাকে। যখন এ পেসার ২১ এর বেশি হয়ে যায় তখন চোখের অপটিক নার্ভের ফাইবার গুলো ধীরে ধীরে  ক্ষয় বা নষ্ট হতে থাকে তখন আমরা এটাকে গ্লুকোমা বলি।

গ্লুকোমা চোখের জন্য কি ধরনের ঝুকিপূর্ন এ প্রসঙ্গতে তিনি বলেন- ‘দেখুন সূষ্টিকর্তা আমাদের চোখ দিয়েছে দেখার জন্য, কান দিয়েছে শোনার জন্য নাক দিয়েছে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য। গ্লুকোমা হলে চোখের প্রেসার বেড়ে যায় এবং নার্ভ ড্যামেজ হতে থাকে। আমরা যখন দেখি তখন সামনের চারদিকে অনেক বড় করে দেখি  কিন্তু গ্লুকোমা হলে চারদিকের পরিধি ধীরে ধীরে কমতে থাকে তখন আমরা অনেকেই কম দেখতে শুরু করি। সেই ক্ষেত্রে অতি জরুরি ডাক্তার এর নিকট যাওয়া। সাধারণত বয়স ৪০ এর উপর হলে  এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা থাকে তাছাড়া এটি বংশগত হতে পারে. আঘাতজনিত কারনেও হতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তা  ও চোখের ছানি অপারেশন না করলেও এই রোগের সম্ভবনা থাকে।

এই রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে তিনি বলেন- ‘গ্লুকোমা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যায় না। তবে দ্রুত চিকিৎসা নিলে গ্লুকোমার কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা যায়। গ্লুকোমা থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করবেন, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর থেকে। পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে সতর্ক থাকবেন। চোখের আঘাত, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, প্রদাহ ইত্যাদি গ্লুকোমার কারণ হতে পারে।

গ্লুকোমা চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় নানা ধরনের চোখের ড্রপ, কখনো লেজার এবং কখনো শল্যচিকিৎসা। শল্যচিকিৎসার নানা প্রকার রয়েছে। এর মধ্যে ফিলট্রেশন সার্জারি, এক্সপ্রেস সান্ট, গ্লুকোমা ভালভ প্রতিস্থাপন ইত্যাদি অন্যতম। তবে গ্লুকোমার আধুনিক চিকিৎসা হলো এক্সপ্রেস শান্ট ইমপ্লান্টেশন, যাতে সফলতা অনেক বেশি এবং জটিলতা অনেক কম। 

এক্সপ্রেস শান্ট একটি ক্ষুদ্রাকৃতির স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি। মাত্র ৩ মিলিমিটার দীর্ঘ এই শান্টটি চোখের ভেতরের পানি বা একিউয়াস হিউমারকে চোখের বাইরে নিয়ে আসে এবং পরে তা রক্তে মিশে যায়। এটি ব্যবহার করলে চোখের ভেতরের আইরিশ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় না। যার ফলে চোখে প্রদাহ কম হয়। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চোখের অবস্থাও থাকে স্বচ্ছ। দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাও বেশি।

একটু ব্যয়বহুল হলেও বিদেশের তুলনায় অনেক কম খরচে এক্সপ্রেস শান্টের সাহায্যে গ্লুকোমার শল্যচিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব।

তাই এরকম সমস্যা মনে হলে বিলম্ব না করে  ডাক্তারের সরনাপন্ন হওয়া উচিত বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎস।

ডা. ইফতেখার মো. মুনির
সহযোগী অধ্যাপক
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট