Opu Hasnat

আজ ১৭ আগস্ট শুক্রবার ২০১৮,

জাতিসংঘে বাংলা ভাষা ও বাস্তবতা : এম এ মুহিত খান মতামত

জাতিসংঘে বাংলা ভাষা ও বাস্তবতা : এম এ মুহিত খান

বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে সর্ববৃহত্তম বিশ্বসংস্থা জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের সপ্তাহখানেক পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম  বিশ্বসংস্থা কোন সভায় আনুষ্ঠানিক বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তারপর এদেশের অনেক সরকার প্রধান বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। সর্বশেষ ৭২তম সাধারণ সভায়ও প্রধানমন্ত্রী অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

ভাষাভাষী জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। প্রায় ২৬০ মিলিয়ন লোক এই ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, উড়িষ্যা, বিহার অঞ্চলের লোকেরা বাংলা ভাষায় কথা বলে।

অনেকেই মনে করেন, ২৬০ মিলিয়ন লোকের মুখের ভাষা সত্ত্বেও বাংলা জাতিসংঘের ৭ম দাপ্তরিক ভাষা হবে না কেন? জানা দরকার বিপুল সংখ্যক লোক কোন ভাষায় কথা বললেই কি ঐ ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা করা হয় কিনা?

আমরা জানি, জাতিসংঘের ৬টি দাপ্তরিক ভাষা আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ ও রুশ। অতীতে জাপান, জার্মান এমনকি ভারতও অনেক তোড়জোড় করেছিল নিজেদের ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদায় আসীন করার।

বাংলাদেশ বহুদিন ধরেই বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদার জন্য দাবি করে আসছে। বিশেষ করে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে এ দাবি জোড়ালো হতে থাকে। এ প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি  দাবি জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করে। পরবর্তীতে সরকারের চাপে জাতিসংঘে অর্থাভাবে বন্ধকৃত বাংলা ভাষায় প্রচারিত রেডিও পুণঃরায় চালু করা হয়। 

প্রশ্ন হল বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পেলে বাংলাদেশ তথা বাঙ্গালিরা কতটুকু উপকৃত হবেন? এ ব্যাপারে জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমেন বিবিসি বাংলায় এক সাক্ষাতকারে বলেন, বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হলে (ক) বাংলা ভাষাভাষী অনেক লোকের চাকরি হবে, (খ) জাতিসংঘের সকল আইন, রেজ্যুলেশন প্রত্যেক  দাপ্তরিক ভাষা তথা বাংলা ভাষায়ও প্রকাশিত হবে, (গ) বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি তথা বিশ্বব্যাপী হবে।

কিন্তু দাপ্তরিক ভাষার খরচ বহনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কি আমাদের আছে? এক হিসাবে দেখা গেছে, জাতিসংঘে যেকোন এক পাতা ভাষান্তর করতে গড়ে খরচ পড়ে ২৫০০ ডলার। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে বলেছিলেন, বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করা হলে বছরে খরচ পড়বে প্রায় ৫৫মিলিয়ন ডলার (প্রথম আলো, ১৫ফেব্রুয়ারি, ২০১৩)।

প্রশ্ন থেকে যায়, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই খরচ বহন করতে রাজি হবে কিনা? যদি রাজি না হয়, তাহলে এই বিশাল খরচ বাংলাদেশ একা কিভাবে বহন করবে। ডঃ মোমেন তাঁর সাক্ষাতকারে অবশ্য বলেছিলেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এ কথাও মনে রাখতে হবে, আরব জাতি দীর্ঘ ১৯ বছরের চেষ্টায় আরবীকে দাপ্তরিক ভাষা করতে পেরেছে।

আমরা বাঙ্গালি জাতি আশাবাদী। বাংলা ভাষা একদিন এই  বিশ্ব সংস্থার দাপ্তরিক ভাষা হবে। কারণ, বিশ্বে একমাত্র বাঙ্গালিই ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে।

লেখক : এমএ মুহিত খান;
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।