Opu Hasnat

আজ ১৫ আগস্ট বুধবার ২০১৮,

বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে সিরাজদিখানের ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত মুন্সিগঞ্জ

বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে সিরাজদিখানের ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত

বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত। দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামের প্রতিটি মানুষই ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে সাঁকো দিয়ে। এতে ওই এলাকার মানুষের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে নির্মিত এই বাশের সাঁকোই এখন ভরসার একমাত্র মাধ্যম। 

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যাতায়ত করছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের ইছামতি নদী পারাপারে ১ কি. মি. মধ্যে দুটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে। ইউনিয়নের ফইনপুর, কালসুর, কানাইনগর, হাটখোলা, কৃষ্ণনগর, খারসুলসহ ১০টি গ্রামের মানুষের একটাই দাবি একটি ব্রিজ নির্মাণ।

সরেজমিনে এলাকাবাসীরা জানান, সামান্য এই পথ অতিক্রম করতেই নাজেহাল হতে হয় গ্রামবাসীদের। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীরা এই ভাবে যাতায়াত করতে না পারায় রাতভর রোগীকে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই রেখে দেন আত্মীয় স্বজনরা। তবুও ওই দশটি গ্রামের বাসিন্দাদের কপালে আজও জুটল না একটি সেতু। 

প্রতিবার নির্বাচন আসার প্রাক্কালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নেই। দীর্ঘ এ সমস্যা সমাধানে সেখানে কোনো ব্রিজ নির্মিত হয়নি। বাঁশ সংগ্রহ করে ওই স্থানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন গ্রামবাসীরা। তখন থেকে প্রতিবছরই এটি ভেঙে গেলে একইভাবে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করেন আর একটি বাঁশের সাঁকো। আর এর ওপর দিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল।

গ্রামবাসীরা আরও জানান, ১টি কলেজ ২টি মাধ্যমিক ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। প্রত্যেকবার নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা ব্রিজটি নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও সেটা আশ্বাসই থেকে যায়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে কেউই আর খবর নেয় না। ব্রিজ নির্মাণের কথা দিয়েও কথা রাখেন না। আমাদের শুধু একটি দাবি-এই পথে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়া হোক।

উপজেলার শেখরনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রবিউল আওয়াল জানান, সেতুর অভাবে বাশের সাঁকো দিয়ে গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করছে। কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অন্ধকারেই নদী পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয় পরিবারের লোকেদের। প্রসূতি অন্ত:সত্তা নারীদের নিয়েও পরিবারের লোকেদের বিপাকে পড়তে হয়।

শেখরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই সাকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসী আসা যাওয়া করে। সেতু নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে বলে জানান তিনি।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানবীর মোহাম্মদ আজিম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতাধীন এটি। এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে। শিগগিরই ব্রিজটির করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।