Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট রবিবার ২০১৮,

হুমকির মুখে জিকে সেচ প্রকল্প সহ আবাদি জমি

হরিণাকুন্ডুতে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ঝিনাইদহ

হরিণাকুন্ডুতে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলায় কৃষি নীতি উপেক্ষা করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভে গভীর খাঁদ সৃষ্টি করে  অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন  করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিকে প্রকল্পের আলমডাঙ্গা পানি সরবরাহের প্রধান সেচ খাল । নষ্ট হচ্ছে আশে পাশের কৃষি জমি ও জমিতে বেড়ে উঠা গাছ পালা। মুনাফা লাভ করছে এলাকার এক শ্রেনীর অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। এঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের শ্রীপুর ও নারায়নকান্দি  গ্রামের মাঝে বেলে পাড়া নামক স্থানে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের শ্রীপুর ও নারায়নকান্দি গ্রামের মাঝে বেলে পাড়া নামক স্থান থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন  করা হচ্ছে। প্রায় ৫০ বিঘা আবাদী জমি জুড়ে বিশাল জলাভুমি সৃষ্টিকরা হয়েছে সেখানে। এই জলাভুমির মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে লাখ লাখ বর্গফুট বালি। গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আকৃতির বালির স্তুপ। সেখান থেকে ট্রাক্টরে করে অবাধে বালি বিক্রি করা হচ্ছে । বালি উত্তোলনের ফলে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ওই বেলে পাড়া মাঠ জুড়ে। নদী ভাঙ্গনের মত বিশাল এলাকা জুড়ে পাশের জমিতে ফাটল ধরেছে। ফলে এলাকার অতি সাধারন মানুষের জমিতে লাগানো গাছপালা, চাষের জমি, বাশেঁর ঝাড়, শিশুগাছসহ নানা প্রজাতির গাছপালা ধ্বসে পড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারন মানুষ। অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের ভয়ে এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

এদিকে জিকে প্রকল্পের সেচ খাল বন্ধ করে খালের পাড় কেটে তৈরী করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা। এতে ২টি সাইড খাল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জিকে প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল ও সাইড খালের মাঝখান থেকে প্রচুর পরিমানে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে সাইড খালের প্রায় ১০০ফুট জায়গা জুড়ে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। এতে শুকনা মৌসুমে জিকে প্রকল্পের সেচ খালে পানি ছাড়লে খালের দু’পাড় ভেঙ্গে যাবে। এতে মাঠের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসি।

এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, শ্রীপুর এবং নারায়নকান্দি গ্রামের আখতার, আলমগীর, ইউনুস, হযরত আলী ওই বেলেপাড়া মাঠে প্রথমে তাদের নিজস্ব অল্প জায়গার মধ্যে বালি তোলা শুরু করে। এরপর ওই বালি তোলার স্থান পরিকল্পিত ভাবে গভীর গর্তের সৃষ্টি করে তারা। তখন পাশের জমি গর্তের ভেতর ধ্বসে পড়ে। পরে তারা কমদামে তাদের কাছ থেকে জমি কিনে নেয়। এভাবেই তারা বেলে মাঠে অনেক জমি কিনে বালি তোলার উত্থান শুরু করে। এলাকাবাসির অভিযোগ এভাবে  যদি বালি তোলা অব্যাহত থাকে তাহলে অচিরেই তারা ভুমিহীন হযে পড়বে। 

বালি তোলার বিষয়ে আলমগীর হেসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, না বুঝে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি তুলে ভুল করেছি। আমরা এখান থেকে আর বালি উঠাবো না। আমরা এ ধরনের আর কোন ভুল করবোনা।  হরিণাকুন্ডু উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী হোসাইন মিয়া বলেন, জিকে প্রকল্পের ঐ অংশ টুকু চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় আমাদের দেখভালের দায়িত্ব না।  

হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, তিনি বালু তোলার ঘটনা কিছু জানেন না। যদি কেউ এভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও আবাদি জমি নষ্ট করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।