Opu Hasnat

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ২০১৮,

৬টি বাল্য বিবাহ রোধ করেছেন ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্বর্ণ কিশোরী সারা নারী ও শিশুঝালকাঠি

৬টি বাল্য বিবাহ রোধ করেছেন ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্বর্ণ কিশোরী সারা

মানুষ হয়ে জন্মেছি তাই মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ আছে। শিশুকাল থেকে যখন চারপাশের মানুষকে বুঝতে শিখেছি তখনই ভাবতাম বড় হয়ে অসহায়, দরিদ্র ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াব। কথাগুলো বলেছিলেন ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নাছরিন আক্তার সারা।  সে বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। 

স্বর্ণ কিশোরী নাছরিন আক্তার সারা ইতিমধ্যে তার এলাকার ৬টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক কর্মকান্ডে সে বেশ মনোযোগী। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী আওয়াজ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে। সে বলেন, “আমি চাই আমাকে ও আমাদের স্বর্নকিশোরী একদল বদলে যাওয়া মেয়েদের দেখে অন্যরাও শিখুক..। তারা যেন কোনো কাজে ভয় না পেয়ে উদ্যেমী মনে সামনে এগিয়ে যায়। সকল বাধাকে অতিক্রম করে আমাদের জয় ছিনিয়ে আনতে পারে। হাত পা ঘুচিয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে। সমাজের পুরোনো কুসংস্কার দূর করে সামনে চলতে হবে নতুনত্বের সঙ্গে মিল রেখে। আমরা চাই এ দেশে আর একজন নারীও যাতে নির্যাতিত না হয়। আমরা যদি পিছিয়ে থাকি তাহলে এ সমাজের কোন পরিবর্তন হবে না। জনসংখ্যা বহুল এ সমাজের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমরা ও তারা সবাই মিলে একটি সুন্দর দেশ গড়তে সক্ষম হবো। আমি ছোটবেলা থেকেই অসহায় দুস্থদের সহায়তা করার জন্য চেষ্টা করে আসছি। আমার যতটুকু আছে তা থেকে অল্প হলেও তাদের সহযোগিতা করি। সব সময় একটাই ইচ্ছে যতদিন বাঁচব ততদিন অসহায়ের জন্য কিছু করে যাব।” 

স্বর্ণ কিশোরী সারা আরও বলেন, ‘আমার বাবা মা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। তাদের জন্যই আমি এ কাজ করতে পারছি। তারা সব সময় আমার মনে উৎসাহ যোগায়। তারা আমার প্রেরণা, তাদের জন্য আজ আমি মানবপ্রেমিক হতে পেরেছি।’ লিখতে লিখতে বাঙালি সাধক স্বামী বিবেকানন্দের একটি কালজয়ী উক্তি মনে পরে গেলো ‘জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ আমাদের সমাজে তরুণদের মধ্যে যে স্বদেশপ্রেম রয়েছে তা সকলের মনেই ধারণ করা উচিত। তরুণদের সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগগুলোকে উৎসাহ প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন। তরুণদের মনে সাহস জাগিয়ে তোলাই প্রকৃত মানুষের কাজ। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও অবহেলিত মানুষ রয়েছে। যারা দিন আনে দিন খায়, আবার অনেকের ভিক্ষা করেই চলে সংসার। কেউ কেউ আবার নির্যাতিত হচ্ছে স্বামীর ঘরে। কেউবা আবার মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এসব অবস্থান থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সমাজকে সচেতন সহ অসহায়দের স্বাবলম্বি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন তরুণ, কিশোরী, বৃদ্ধ সকলের সহযোগিতা। একটু উদ্যোগ ও পরিশ্রমই পারে আমাদের দেশকে দরিদ্র মুক্ত করতে। বর্তমানে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে যারা মানবসেবায় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছেন। নি:স্বার্থভাবে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। তারা কারো কারো ব্যক্তিগত কিংবা সম্মিলিত প্রয়াসে মানবতার সেবায় ব্রত থাকেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যদান, দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, অসহায়-দরিদ্র পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ইফতার আয়োজন, ঈদের খাদ্যসামগ্রী এবং নতুন পোশাক বিতরণের কর্মসূচিগুলো আলাদা আমেজ তৈরি করে। আমাদের সমাজের প্রত্যেক মানুষের উচিৎ এ ধরণের মানসিকতাকে লালন করা। যারা নতুন, যারা কাজ করতে চায় তারা যদি কাজটার সঙ্গে ভালবাসাকে সম্পৃক্ত করতে পারে তাহলে তারা অনেক বড় কিছু পাবে যেটা তারা প্রত্যাশা করে না। আমাদের সমাজে এই মুহুর্তে অনেক ভাল ভাল উদ্যোগ দরকার। ভাল মানুষ হতে হলে অবশ্যই তাকে ভাল ভাল কাজের মধ্যে থাকতে হবে। নি:স্বার্থভাবে কাজকে মনে প্রাণে গেঁথে নিতে হবে। কেননা আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।