Opu Hasnat

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী সোমবার ২০১৮,

মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজি আবাদ ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা কৃষি সংবাদমুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজি আবাদ ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা

বিগত কয়েক বছরে মুন্সীগঞ্জে প্রতিকূল আবহাওয়ায় কারনে শীতকালীন সবজি আবাদে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলেও এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে ব্যাপক পরিমানে সবজি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যেই আবাদ ছাড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। তাই সবজি চাষে সন্তুষ্ট এ জেলার কৃষকরা। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় এবছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও এর মধ্যে ৪ হাজার ২১৮হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। 

এখন পর্যন্ত, টমেটো ২১৫হেক্টর জমিতে, লালশাঁক ৫৮৪ হেক্টর, সীম-২৪৫হেক্টর, লাউ-৬২৫হেক্টর, মুলা-৪০৫হেক্টর, বেগুন ১৮১হেক্টর, শসা ৫ হেক্টর, খিড়াই-৩৩৭হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৪৮৮হেক্টর, ফুলকপি ২৬৫হেক্টর, বাঁধাকপি-১১১হেক্টর, দাটা-২২৪হেক্টর, উস্তা ৩২৯ হেক্টর ও ১৫৯ হেক্টর জমিতে পালনশাঁক আবাদ হয়েছে। এছাড়াও পাশাপাশি সল্প কিছু  জমিতে ধণে পাতা, গাজর সহ অন্যান্য খোরাকী সবজিও আবাদ হয়েছে।

এদিকে, আবাদি সবজি ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখায় সবজি চাষীদের খুশির হাসি ফুটেছে । মুন্সিগঞ্জে প্রধানত আলু চাষ হলেও এবার জেলার ৬টি উপজেলায় আলুর পাশাপাশি শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে ব্যাপক। 

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ, পাচঁ-গড়িয়াকান্দি, কাটাখালি, বাংলাবাজার, মহাকালি সহ টঙ্গিবাড়ি ও সিরাজদিখান উপজেলার কয়েকটি গ্রামে দেখা যায়, আলু, টমেটো, লালশাঁক, সীম, লাউ, মুলা, খিড়াই, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, দাটা, উস্তা, পালনশাঁক সহ ২০-২৫ ধরনে সবজির আবাদ হয়েছে। কোন কোন জমিতে  সবজি আবাদ, পরিচর্যা, উত্তোলন করছে কৃষকরা। 

সেখানকার স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসব সবজি গুলো প্রতি বছর অল্প পরিসরে চাষ করা হতো। আলুর চাষটাই বেশি হত। আলুতে লোকসান গোনতে হওয়ায় এ বছর তারা ওই সবজি গুলোর দিকে একটু বেশি ঝুকতে হয়েছে। এবং এখন পর্যন্ত যারা শীতকালীন সবজি বিক্রি করতে পেরেছেন, প্রত্যেকেই তাদের খরচ পুষিয়ে এ বছর অনেকটাই লাভবান হয়েছে। 

উৎপাদিত এসব সবজি মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ আশপাশের জেলার বাজার গুলোতেও বিক্রি হচ্ছে বলে জানান কৃষকরা।  

এদিকে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার  দক্ষিণ ইসলাম ও খাসকান্দি এলাকার কপি চাষীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ বছর আমি ১০ হাজার  বাধাকপি ও ৫ হাজার ফুল কপির চাষ করেছিলাম। প্রতিটি কপির জন্য ১০-১৫ টাকা খরছ হয়েছে। যা গড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। জমিতে ফলনও  ভালো হয়েছে। তাই খরচ বাদে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ভালোই লাভ হয়েছে।

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আউটশাহী এলাকার টমেটো চাষী করিম শেখ জানায়, বাজারে ৩৫-৪০ থেকে ৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি টমেটো। 

এছাড়াও খোঁজনিয়ে জানা যায় শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়ল বিলে মিষ্টি কুমড়া এবং  সিরাজদিখানে উপজেলার উস্তার গত বছরের চাইতে এ বছর ফলন বেড়েছে। চাষীদের দাবি এসব সবজি বিক্রি করে এবার ভালো দাম পাচ্ছেন। 

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্পাসরন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ন কবির জানান, এ বছর শীত একটু বেশি হলেও তা সবজি চাষের জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই ভালো ছিলো। গত বছরের ২০১৭-সালের ডিসেম্বর মাসের ৮ ও ৯ তারিখের প্রবল বৃষ্টির কারনে মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজি আবাদ কিছুটা ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও পরবর্তিতে আবহাওয়া ভালো থাকায় আর ক্ষতির মুখমুখি হতে হয়নি। এবছর মুন্সিগঞ্জে শীতকালীন সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৭ হাজার ৯৪৩ মেট্রিক টন  নির্ধারণ করা হয়েছে । এর মধ্যেই এ বছরের শীত মৌসুমের সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে গেছে। আবাদ আরো বাড়ার সাথে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলা কৃষি সম্পাসরন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ন কবির।