Opu Hasnat

আজ ২২ অক্টোবর সোমবার ২০১৮,

গোবিন্দ তালুকদার এর ‘নিউ ইয়ার গ্রিটিংস’ শিল্প ও সাহিত্য

গোবিন্দ তালুকদার এর ‘নিউ ইয়ার গ্রিটিংস’

ফোনটা সাত সকালেই এসেছিল হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে।

ঘুমচোখে কথা বলেই শীতসকালে মন ফুরফুরে হয়ে গেলো বিজয় সরখেলের। খুশির ঝিলিক মনের প্রান্তে, শীতল স্পর্শে, শীতসকালে। যাক্, অবশেষে.......

ফোনের প্রান্তেও খুশির ঝিলিক, তবে ধীরস্থির, গাম্ভীর্যের আভরনে। বহুদিন বাদে নিউ ইয়ারের শুভকামনা জানিয়েছে তার বহুদিনের স্বপনচারিনী সুমিত্রা সাহা।

এতদিন তার সাথে  না ছিলো দেখা, না  কোন যোগাযোগের সূত্র। মোবাইল ফোনের রিনরিন সুর তার জীবনে এক পরম প্রাপ্তি বহুদিন বাদে! আশার বাণী!
 
জীবনে তাকে আপন করতে চেয়েছিলেন বিজয়বাবু। কিন্তু সুমিত্রাকে কিছুতেই রাজি করাতে পারেন নি। এক অদৃশ্য বাধা, মনের কাছে ঠাঁই দেয়া সম্ভব হয়নি সুমিত্রার,  যদিও মনেপ্রানে সে বিজয়বাবুকে ভালবাসতো। সংসার সুখ বড়োই আপেক্ষিক। চাইলেই পাওয়া হয়ে ওঠেনা।  সংসার তো পেয়েছিল, কিন্তু কি হোলো! 

সুমিত্রার বিয়ে হয় এক ব্যবসায়ীর সাথে। স্বামীকে সে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। স্বামী দিনরাত ব্যবসার কাজে ব্যস্ত। তাকে সময়ই দিতো না। সে তার কাছে ছিল যৌনসাথী মাত্র, প্রয়োজন অনুসারে। মদের নেশায় আসক্ত, পরস্ত্রীকে নিয়ে যত্রতত্র খুশির বিহারে ব্যস্ত। সুমিত্রা নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে।  সন্তান চেয়েছিল, পায়নি।   সুমিত্রা তার স্বামীকে বশেই আনতে পারেনি। অবশেষে বৃদ্ধা শাশুড়ির মৃত্যুর পরে, একাকীত্ব সহ্য করা সম্ভব হয়নি আর! তারপর?

অনেক মানসিক শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও যখন দেখলো আর কিছুতেই নয়। 
শপিং মলে একটা কাজ ঠিক করে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে আসা। মায়ের কাছে আপন নীড়ে। শান্তির খোঁজে।

শপিং মলেই সুমিত্রার সাথে আলাপ, ধীরে ধীরে তার মনপ্রান দখল করে নিয়েছিলেন বিজয় সরখেল। তার দুঃখে সমব্যথী হয়ে। একসাথে চলবার প্রস্তাবে তবু মন সাড়া দেয়নি তার।

সুমিত্রা বলেছিল, বৃদ্ধা মা’কে ছেড়ে সে নিজের সুখ খুঁজে নিতে অপারগ।  সংসার পেয়েও সুখ মেলেনি, নুতন করে কি হবে! আর প্রেমিক প্রবর তো বিয়ে করে সংসারী।

নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা জানাতেই বিজয়বাবু বলেছিলেন--- আঠারো সাল সাবালক। আঠারোর উদ্দাম যৌবন  ফিরে না আসলেও তো মনের উচ্ছ্বলতা ফিরিয়ে আনা যায়। কাছে এসো সুমিত্রা, দেখা দাও। ঠিকানা বলো, আবার কাছে হই দুজনে। তোমাকে ভালোবাসি এখনো। তোমার বুকে কি মায়া নেই! তুমি এতো নিষ্ঠুর!  কথা দাও,  ঠিকানা দাও। দেখা করি নিরিবিলি কোথাও!   

খিলখিল হাসির ঢেউ তুলে  চঞ্চলা হরিনীর মতো সুমিত্রা শুধু বলেছিল--- নিজের স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সুখী হও। অভাগিনীকে ভুলে যাও। 

আবেগমিশ্রিত কন্ঠে সুমিত্রার কন্ঠে প্রাজ্ঞতা।

পরকীয়ায় বিড়ম্বনা প্রচুর,  সুখ নেইকো মোটেও। মনে রেখো, বিরহেই মিলনের মাধুর্য। 
‘ভালো থেকো’ বলেই ঝুপ করে ফোন কেটে দিলো সুমিত্রা। 

স্ত্রীর দেয়া বেড টি  হিমশীতল তাকিয়ে আছে বিজয়বাবুর দিকে, বিছানার পাশের টেবিলে। দেয়ালে টিকটিকিটা ঠিকঠিক শব্দ করে উঠলো। 


গোবিন্দ তালুকদার
বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর।