Opu Hasnat

আজ ১৭ নভেম্বর রবিবার ২০১৯,

শিবালয় সদরউদ্দিন ডিগ্রী কলেজ

শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ মানিকগঞ্জ

শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ

শিবালয় সদরউদ্দিন ডিগ্রী কলেজ গভর্নিংবডি (এডহক কমিটির)  শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রেরিত পত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে, বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারসহ অভিযুক্তদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে  তফশিল ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করেছেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ। এমতাবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণীত বিধি বহিভর্’তভাবে প্রকাশিত ভোটার তালিকা বাতিল ও পুনরায় চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.ন.ম বজলুর রশিদ।  

অভিযোগে প্রকাশ, শিবালয় সদরউদ্দিন ডিগ্রী কলেজ গর্ভনিংবডি (এডহক কমিটির)  শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষে গত ২৩ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে তা কলেজের নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে কারো কোন অভিযোগ থাকলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর আবেদনের জন্য বলা হয়। কিন্ত ওই খসড়া ভোটার তালিকা সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর কেউ কোন আবেদন করেননি। কিন্ত বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেছিলেন। তাদের এ অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গত ৯ অক্টোবর ওই অভিযোগকারীদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তভর্’ক্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অপর একটি আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে স্মারক নং ০৫.৩০.৫৬০০.২০৪.১৮.০২৭.১৭.৪৫৮ তাং ১০ অক্টোবর ২০১৭খ্রি. মূলে শিক্ষক শ্রেণির ভোটার তালিকা অন্তভর্’ক্ত না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ পূর্বক পত্র প্রদান করেন। কিন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ পত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ বাসুদেব কুমার দে শিকদারসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তভর্’ক্ত করে গত ১২ নভেম্বর ২০১৭খ্রি. বিধি বহির্ভূতভাবে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। যে ভোটার তালিকায় ভারপাপ্ত অধ্যক্ষের কোন সম্মতি নেই। ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিক্রয়, জমা ও বাছাইয়ের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছিল। ১৫ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ছিল। আগামী ২০ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ। এ প্রেক্ষিতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.ন.ম বজলুর রশিদ গত ১৪ নভেম্বর ২০১৭খ্রি.  উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণীত বিধি বহিভর্’তভাবে প্রকাশিত ভোটার তালিকা বাতিল ও পুনরায় চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন।  

অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ভোটার তালিকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ইউএনও’র যৌথ স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও অধ্যক্ষের স্বাক্ষর নেয়া হয়নি।  ১ নং ভোটার ড.বাসুদেব দে কুমার শিকদার কলেজ থেকে সাময়ীক বহিস্কৃত, ৮নং ভোটার হোসনে আরা খাতুন বর্তমানে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব জিয়নপুর শেখপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত, ৯নং ভোটার মো. দেলোয়ার হোসেন অনৈতিক কার্যকলাপের দরুন জেলা প্রশাসকের মৌখিক নির্দেশে কলেজে প্রবেশে নিশেধাজ্ঞা রয়েছে, ১০নং ভোটার মো. তারা মিয়া বানিয়াজুরী স্কুল এন্ড কলেজে কর্মরত, ১৭নং ভোটার মো. বাদল মিয়া অক্সফোর্ড একাডেমীতে কর্মরত, ১৯নং ভোটার সুস্মিতা বিশ্বাস কলেজে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রী পাস ও অনার্স কোর্সে পাঠদানের অনুমতি নেই, ২২নং ভোটার রবিন্দ্র নাথ দাস ঘিওরের বানিয়াজুরী স্কুল এন্ড কলেজে, ২৪নং ভোটার আবুল কালাম আজাদ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জুনিয়র স্কুলে কর্মরত, ২৫নং মো. সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠদানের অনুমতি নেই এবং কলেজে অনিয়মিত, ৪০নং ভোটার মো.মাহবুব আলম হরিরামপুর সৈয়দনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত,  ৪৪নং মোসাম্মদ সেলিনা পারভীন সাবজেক্ট নেই বলে জনা গেছে।   

এব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাশেদ সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যক্ষের দেয়া তালিকা অনুযায়ীই ভোটার তালিকা প্রণয়ণ করা হয়েছে। এব্যাপারে তিনি কিছুই জানেননা,  অধ্যক্ষকে জিজ্ঞাসা করার জন্য পরামর্শ দেন। 

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.ন.ম. বজলুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের বিষয়ে তাকে কোন কিছু না জানিয়েই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার ইচ্ছে মতো ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে তফসিল ঘোষনা করেছেন। এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। কলেজে এখন নির্বাচনি পরীক্ষা চলছে। এসময়ে শিক্ষক শ্রেণির প্রতিনিধি নির্বাচন অযৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন।