Opu Hasnat

আজ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

সুনামগঞ্জের হাওরে অনুষ্ঠিত হলো ব্যাতিক্রমী কিশোরীদের নৌকা বাইছ! সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওরে অনুষ্ঠিত হলো ব্যাতিক্রমী কিশোরীদের নৌকা বাইছ!

বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের বিখ্যাত গান ‘কোন মেস্তুরী নাও বানাইছে কেমন দেখা যায়, ওরে ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ুর পংক্ষি নাও’ এমন মনকারা গানের সুরে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের ছনোয়ার হাওরে হয়ে গেল আবহমান  বাংলার ঐতিহ্যবাহী ব্যাতিক্রমী কিশোরী (মেয়েদের) নৌকা বাইছ প্রতিযোগিতা। কিশোরীরা মাঝি-মাল্লা সেজে ‘মারো টান হেইয়ো, বাইয়ো হেইয়ো'-এসব আওয়াজ আর হাজার হাজার দর্শকের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে দিলো  এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী কেয়ার বাংলাদেশ এর অর্থায়ানে ও  জৈন্তা ছিন্নমুল সংস্থা (জেছিস)’র আয়োজনে ছনোয়ার হাওরে দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী কিশোরীদের এই নৌকা বাইছ প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই ছনোয়ার হাওর পাড় সাচনা বাজার সিএনবি রোডে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী ও হাজার-হাজার দর্শকরা জমায়েত হন। প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্ব মুহুর্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল-ইমরান, সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম জেসিস পিডি বদরুল ইসলাম’র নেতৃত্বে কিশোরীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

“কন্যা শিশুর জাগরণ, আনবে দেশে উন্নয়ন” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষযক কার্যালয়ের সহযোগীতায় জেছিস টিপিং পয়েন্ট প্রকল্প কিশোরীদের নৌকা বাইছ প্রতিযোগীতার আয়োজন করে। জামালগঞ্জ সদর, সাচনা বাজার, বেহেলী ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিযনের জেছিস এর টিপিং পয়েন্ট প্রকল্পের কিশোরীরা ৬টি ভাগে বিভক্ত হয়ে নৌকা বাইছে অংশ গ্রহন করে। নৌকা বাইছের শুরুতে হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহ যোগীয়ে যান। দিনব্যাপী চলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ব্যাতিক্রমী নৌকা বাইচ এই প্রতিযোগিতা। এতে জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন প্রথম ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন রানার্স আপ হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম,জেলা পষিদের সদস্য ও মহিলা সংস্থার সভানেত্রী ফৌজি আরা শাম্মী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দীপু, থানার অফিসার ইন-চার্জ মো: আবুল হাশেম, কেয়ার বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ অঞ্চলের অফিস ম্যানেজার জোবেদ খানম, (টিপিং পয়েন্ট প্রকল্প) প্রজেক্ট ম্যানাজার  মোঃ রফিকুল ইসলাম,জেসিসের নির্বাহী পরিচালক এটিএম বদরুল ইসলাম, উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রজব আলী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক এম.নবী হোসেন প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, এক সময় নৌকা বাইচ ছিল গ্রাম বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব। কালের আবর্তে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। যুগ যুগ ধরেই পূরুষরা নৌকা বাইচে পূরুষরা অংশ নিলে ও এই প্রথমবারের মতো বাংলার ইতিহাসে কিশোরী মেয়েরা নৌকা বাইচে অংশ নিয়ে প্রমাণ করলো সরকার, প্রশাসন কিংবা বেসরকারী সংস্থাগুলো যদি এগিয়ে আসে তাহলে নারীরা পূরুষদের সাথে সমানভাবে যেকোন কাজে অংশগ্রহন করে দেশ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি গ্রামবাংলার প্রাচীনতম  ঐতিহ্য সম্পর্কে বর্তমান প্রজনের মেয়ে এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা করছেন নৌকা বাইচে অংশগ্রহনকারী কিশোরীরা। 

পরে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী  উত্তর ইউনিয়নের জেসিস এর  টিপিং পয়েন্টের কিশোরী সংগঠন  ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী সাচনাবাজার ইউনিয়নের জেসিস এর  টিপিং পয়েন্টের কিশোরী সংগঠন  এর হাতে ট্রফি(পুরস্কার) তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর