Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

দূর্নীতি প্রমানিত বিভাগিয় মামলার শুপারিশ বাগেরহাট

দূর্নীতি প্রমানিত বিভাগিয় মামলার শুপারিশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে উপজেলা সহকারী  শিক্ষা অফিসার মামুনুর রহমান হাওলাদার লাঞ্জিত হওয়ার ঘটনার দায় এড়াতে ঘটনার এক সপ্তাহ পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুম বিললাহ প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। তবে এ বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অধিকাংশ শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্ত তমূলক শাস্তি হবে কিনা এনিয়েও সংশয় রয়েছে।  
     উপজেলা সহকারী  শিক্ষা অফিসার মামুনুর রহমান হাওলাদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. বশিরুল আলমকে আহবায়ক ও অপর ২  সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম ও মো. মোঃ তাকিম বিললাহকে সদস্য করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদšত কমিটি ৯ আগষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে তদšত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদšত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিলিপের অর্থ ব্যয়, বাজেট, ক্যাশবহি , ষ্টক রেজিষ্টার , কমিটির রেজুলেশন বহি, সামাজিক মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, এসএমসির নোটিশ বহি, রেজুলেশন বহি. পিটিএ রেজুলেশন বহি, উপবৃত্তি রেজিষ্টার, বার্ষিক পরীক্ষার উত্তরপত্র, ফলাফল রেজিষ্টার সহ অন্যান্য রেজিষ্টার প্রদর্শণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও বিগত ৩ অর্থবছরের সিলিপের বরাদ্দকৃত ৯০ হাজার টাকার কোন মালামাল ও ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকের জন্য বরাদ্ধকৃত ৫ হাজার টাকা ভূয়া ভাউচার জমা দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেই পকেটস্থ করেছেন। 
এসব সরকারি কোন বরাদ্ধের বিষয়ে কিছুই জানেননা বলে এমএমসি সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান। অপরদিকে পরীক্ষাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার শতকরা ৩৯ দশমিক ৩১ ভাগ হলেও যাহা উপবৃত্তি ও বিস্কুট বিতরণে চরম অনিয়মের প্রমান । বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হলেও ৮৪ জন শিক্ষার্থীর নামে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করা হতো। 
    ৫ আগষ্ট উপজেলা ২৩৭ নং সিএস পাঠামারা সরকারি (সদ্য) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মামুনুর রহমান হওলাদারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্জিত করে। ওই দিন উপজেলা সহকারী  শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেলে সকাল ১০টা পর্যšত অফিসসহ সকল ক্লাশ রুম তালাবদ্ধ পান। প্রধান শিক্ষক দেরিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ায় জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়নি। তাছাড়াও ঐদিনে পরীক্ষা যথাসময়ে আরম্ভ হয়নি। প্রধান শিক্ষক এটিও’র উপস্থিতির খবর জানতে পেয়ে তড়িঘড়ি করে সোয়া ১০ টায় ও অন্যান্য শিক্ষকরা সাড়ে ১০ টার পরে উপস্থিত হন। এসময় তিনি তার অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ অন্যান্য অফিসিয়াল কাগজপত্র দেকতে চান। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। 
  তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ মোতাবেক প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত প্রশাসনিক বদলিসহ বিভাগীয় মামলার রুজু করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন দাখিলের পর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুম বিললাহ প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে কারন দর্শানোর নোটিশ (স্মারক-উশিঅ/মোরেল/বাগের-৬৯৮) প্রদান করেছেন। এ নোটিশ প্রদানের ৩ দিনের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে জবাব প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। ##