Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক বন্ধনের সৃষ্টিশীল কারিগর বাবুই পাখি কিশোরগঞ্জ

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক বন্ধনের সৃষ্টিশীল কারিগর বাবুই পাখি

উবায়েদ রনি, কিশোরগঞ্জ : সময়ের বিবর্তনে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে শিল্পী, সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধনের নিদর্শনখ্যাত বাবুই পাখি ও তার দৃষ্টিনন্দন বাসা।  গ্রাম বাংলায় এখন আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা খুব একটা দেখতে পাওয়া যায়না।

“বাবুই পাখিরে ডাকি বলেছে চড়াই, কুড়েঁ ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই”।

কবির কালজয়ী কবিতার লাইন দুটি সকলের মনে দাগ কাটে এই বলে যে, বাবুই পাখি সৃষ্টিশীল শিল্পকর্মের উজ্জ্বল নিদর্শন।

কালের বিবর্তনে  এখন বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি। তালগাছে তারা বাসা বাঁধে আর এই তাল গাছকে করে তোলে নয়নাবিরাম। এমন নিপুন কারিগরী সৃষ্টিতে আর কোন পাখি বাসা বাধতে পারেনা। বাবুই পাখি আবহমান বাংলার শোভা। তারা তাদের বাসাকে দৃষ্টিনন্দন ও নয়নাভিরাম করে তৈরি করে যা প্রবল ঝড় ও বাতাসেও ক্ষতি করতে পারেনা। এত সুন্দর কারুকার্যময় বাসা মানুষের পক্ষেও তৈরি করা কঠিন।

খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তাল গাছের কচি পাতা, ঝাউগাছ ও লতাপাতা দিয়ে তালগাছে দৃস্টিনন্দন করে গড়ে তোলে তাদের ছোট্ট কুড়েঁঘর। একসাথে এক গাছে দল বেধে তারা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে যা সকলের জন্য শিক্ষনীয়। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের নিপুন কারিগর।

ক্রমশই উজাড় হচ্ছে তালগাছ। বছর দশেক আগেও গ্রাম-গঞ্জে নারিকেল, তাল ও সুপারি গাছে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত। এখন খুব একটা চোখে পড়েনা বাবুই পাখির বাসা। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে“তারা রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য জোনাকি পোকা ধরে এনে রাখত আর সকালে ছেড়ে দিত”।

কিশোরগঞ্জ জেলায় হাওড় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত যা বর্তমানে খুব একটা পড়েনা। পরিবেশবিদদের মতে, তাল গাছ লাগানোর মাধ্যমে এ পাখির বিলুপ্তিরোধ করা সম্ভব।

পাখি প্রেমিক সজল রহমান বলেন, যেভাবে তালগাছ হারিয়ে যাচ্ছে তাতে বাবুই পাখিও বিলুপ্ত হতে বেশি সময় লাগবেনা, বাবুইপাখি বিলুপ্তি যেন না হয় তার জন্য সকলের সচেতনতা ও ব্যাপক ভিত্তিতে তালগাছ লাগানো দরকার। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর