Opu Hasnat

আজ ২৫ আগস্ট রবিবার ২০১৯,

গৌরবের ১৮০ বছরে কুমিল্লা জিলা স্কুল শিক্ষাকুমিল্লা

গৌরবের ১৮০ বছরে কুমিল্লা জিলা স্কুল

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) গৌরবের ১৮০ বছর উদযাপন করবে কুমিল্লা জিলা স্কুল। বাংলাদেশের খ্যাতনামা অন্যতম সুপ্রাচীন বালক বিদ্যলয়টির ১৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে। বিদ্যালয় এলাকা লাইটিং, নান্দনিক তোরণ নির্মাণ আর সুসজ্জিতকরণের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানের ২০৫৬ জন ছাত্র আর প্রাক্তন ১০০০ জন ছাত্রসহ জিলা স্কুল পরিবারের সদস্যদের মিলন মেলায় বিদ্যালয়ে এক অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হবে বলে তাদের বিশ্বাস। 

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র নাহিদুল জানায়, জিলা স্কুলে পড়তে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। স্কুলের ১৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন ও সে আয়োজনে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পেরে অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, ২০ জুলাই বিদ্যালয় ছোট-বড় ছাত্রদের মিলন মেলায় পরিণত হবে। পাঁচ বছর পর আবারো এত বড় আয়োজন করা হচ্ছে। আমার ছাত্রদের আনন্দই আমার আনন্দ। এ আনন্দ আমার নয়, স্কুলের সবার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল খায়ের মুন্সী বলেন, বিদ্যালয়টির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের পড়াশোনা, ফলাফল ও অবকাঠামোগত দিকগুলোও চমৎকার। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি সুনাম বয়ে আনবে।

সকাল ৮টায় স্কুল আঙিনায় শেষ পর্যায়ের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। সকাল ১১টায় র‌্যালি, দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা, দুপুর ২টায় মধ্যাহ্নভোজ, দুপুর ৩ টায় সমাপনীর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে। এ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে ওইদিন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে গান পরিবেশন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে আলাদা আলাদা ব্যানার করা হবে।

১৮৩৭ সালের ২০ জুলাই কুমিল্লা জেলা ম্যাজিষ্ট্র্যট অফিসের প্রধান করণিক মি. হেনরি জর্জ লাইচেস্টার বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এটি কুমিল্লা গভর্নমেন্ট স্কুল নামে পরিচিত ছিল। ১৮৩৯ সালের মে মাসে তিনি এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮৭০ সাল মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে ৫ জন ইউরোপিয়ান, ১জন হিন্দু ও ৩জন মুসলমান বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির একটি কমিটির ওপর এর পরিচালনার ভার ন্যস্ত ছিল। এদেশের অধিবাসীদের ইংরেজির মাধ্যমে ‘মাগরেবি তালিম’ দেবার জন্য এ বিদ্যালয় চালু করা হয়। ধর্মসাগর দিঘির পাড়ের একটি বাংলোতে প্রথম এর ক্লাস শুরু হয়। পরবর্তীতে স্কুলের পরিধি আরো বিস্তৃত হতে থাকে। ক্রমেই বাড়তে থাকে ছাত্র ও শিক্ষকের সংখ্যা। সে সাথে ভবনের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। স্কুলটিতে বর্তমানে চারটি হাউজ রয়েছে। এগুলো হলো আবু জাহিদ হাউজ, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হাউজ, কাজী নজরুল ইসলাম হাউজ ও মোতাহের হোসেন হাউজ। প্রত্যেক বছর হাউজগুলোর মধ্যে খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আসরের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর), স্কাউটিং, খেলাধুলা (অ্যাথেলেটিক্স, ফুটবল, ক্রিকেট), বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক সাময়িকী, গণিত ও ভাষা প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা ও শিক্ষাসফর ইত্যাদি। বর্তমানে স্কুলটি দুটি শিফটে বিভক্ত। এছাড়া ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত কয়েকটি শাখায় বিভক্ত করে চালানো হচ্ছে শ্রেণি কার্যক্রম । বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২০৫৬জন শিক্ষার্থী ও ৫৩ জন শিক্ষক রয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে জিলা স্কুলের ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, সচিব, মন্ত্রী ও বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন এ বিদ্যালয় থেকে। এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করেছেন সংগীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মন, সংগীত শিল্পী হিমাংশু দত্ত, শিল্পী ও স্বরলিপিকার সুধীন দাশ, শিল্পী আপেল মাহমুদ, সুরকার ও গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, কেবিনেট সচিব আজিজুল হক, জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাশসহ অসংখ্য গুণী ব্যক্তিত্ব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, কুমিল্লা জিলা স্কুৃল বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতীক। আগামীকাল ২০ জুলাই বিদ্যালয় ছোট-বড় ছাত্রদের মিলন মেলায় পরিণত হবে। পাঁচ বছর পর আবারো একটি বড় আয়োজন করা হচ্ছে। আনন্দের সাথে সকলে অংশগ্রহণ করবে এটাই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর