Opu Hasnat

আজ ২৫ আগস্ট রবিবার ২০১৯,

‘ঢাকার ট্রাফিক সমস্যা : স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত শিক্ষা

‘ঢাকার ট্রাফিক সমস্যা : স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

‘ব্যক্তিগত গাড়ী মুক্ত শহর’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৬ জুলাই “ÒFixing Dhaka’s Traffic: Dream or Reality?” শীর্ষক সেমিনার ও পার্কলেট এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর সম্মেলন কক্ষে দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং এবং পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগ) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় (৩/২-আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭)। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আরজু মিঞা, মাননীয় রেজিষ্টার প্রফেসর মো. মোফাকের, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মাননীয় ডীন প্রফেসর মাসুদা এম রাশীদ, সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগ (পিইউবি) এর মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান, প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং এর আন্তর্জাতিক উপদেষ্ঠা ডেব্রা ইফ্রইমসন, অতিথি বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর বেটার অব বাংলাদেশ এর প্রজেক্ট অফিসার মো. আতিকুর রহমান। 

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইডাব্লিউবি এর প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী ম্যান্ডি ইন্দ্রাণী মুখুটি। সঞ্চালনা করেন আইডাব্লিউবি এর জনসংযোগ কর্মকর্তা বরণী দালবত। স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগের সহকারী প্রফেসর মো. দিপুল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন আইডাব্লিউবি এর অন্যান্য স্টাফ, পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এর ইন্টার্ণ ছাত্রছাত্রীরা। 

ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়িতে ৭ শতাংশ ট্রিপ হয়, আর এজন্য সড়কের সত্তর (৭০) ভাগ জায়গা দখল করে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদনশীল কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে। হাঁটা, সাইকেল, রিকশার সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রাইভেট কারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব। ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, প্রতিনিয়তই সড়ক দূর্ঘটনা বাড়ছে, সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, বৃদ্ধসহ সকলের জন্য পরিবেশবান্ধব বাসযোগ্য শহরের স্বার্থে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ জরুরী। 

পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. আরজু মিঞা বলেন, ‘আমাদের শহরের সৌন্দর্য হাড়িয়ে গেছে, আমরা প্রকৃতিকে অন্তরে লালন করি না, ভালবাসি না, ভালবাসতেও শিখায় না। বর্হিবিশ্বের দিকে তাকালে বুঝা যায় আমরা কতটুকু ধ্বংস ও হুমকির মুখে আছি। তিনি আমাদের এই সমাজ কল্যাণমূলক কাজের সাধুবাদ জানিয়ে একমত পোষণ করেন।’

পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর মাননীয় রেজিষ্টার প্রফেসর মো. মোফাকের বলেন, ‘আমাদের ঢাকা শহরে এত যানজট আর এত দূর্ঘটনা বেড়েছে যে বলা বাহুল্য। কাজটি পরিবেশবান্ধব ও কল্যাণমূলক। তাই আমরা চাই আমাদের ছাত্রছাত্রীরা এ ধরনের কাজগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হোক। দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং এবং পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগ) এর যৌথ প্রযোজনায় এমন সুন্দর সেমিনার আয়োজন করার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।’

সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগ (পিইউবি) এর মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আজকের ঢাকার যে অবস্থা এজন্য আমিও চাই এই শহরের যানজট ও সড়ক দূর্ঘটনা নিরসন হোক, শহরটা বাসযোগ্য হোক। কারন সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগের আমাদের একজন ছাত্র মারা গেছে সড়ক দূর্ঘটনায় এই জুলাই-২০১৭ সালে। আমরা আর কোন রক্তাক্ত মৃত্যু দেখতে চাই না।’

দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং এর আন্তর্জাতিক উপদেষ্ঠা ডেব্রা ইফ্রইমসন তার বক্তব্য বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে গৃহযুদ্ধ হয়ে যত না লোক মারা যায় তার চেয়েও বেশি বাংলাদেশে লোক মারা যাচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনায়। এর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আমরা কি এমনটাই দেখতে থাকব শুধু নাকি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব? আসলে আমরা একটা অবাস্তব শহরে বসবাস করছি যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। যান্ত্রিক যানগুলোর বিকল্প হিসাবে আমরা ট্রাম, রেল, রিকশা, সাইকেল যা পরিবেশবান্ধব, এই ধরনের যানবাহনগুলো ব্যবহারে উৎসাহিতকরন ও হাঁটার জন্য অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।’ 

উপস্থিত বক্তাদের একজন বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং এর জন্য যত জায়গাই দেয়া হোক না কেন চাহিদা শেষ হবে না। আমরা মানুষের জন্য ভাল আবাসিকের বাসা দিতে পারিনা অথচ গাড়ি পার্কিং হয় সব জায়গায়। এর একমাত্র সমাধান হলো ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং স্থান কমানো। পার্কিং এর স্থান কমানো হলে গাড়ির ব্যবহার কমে আসবে ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।’  

সেমনিার শেষে  পিপল্স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর সামনে একটি পার্কলেট আয়োজন করা হয় যেখানে সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরাসহ পথচারীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। পার্কলেট হলো ফুটপাথের বর্ধিত অংশ। সাধারণত একটি বা দুইটি গাড়ি পার্কিং জায়গা ব্যবহার করে পার্কলেট তৈরি করা হয়। পার্কলেট স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো মানুষ রাস্তায় চলাচলের সময় যেন এমন একটি জায়গা পায় যেখানে তারা অবসর যাপন করতে পারে, সামাজিকতা রক্ষা করতে পারে বা খেলাধুলা করতে পারে। পার্কলেট দুই ধরনের হতে পারে- কয়েক ঘন্টার জন্য অস্থায়ী পার্কলেট এবং স্থায়ী পার্কলেট।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর