Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমার হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ খাগড়াছড়ি

কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমার হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পৌরসভার আরামবাগে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইতি চাকমাকে হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ ও খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শাখা।

বুধবার (১লা মার্চ ২০১৭ সকাল সাড়ে ৯টরা দিকে) পিসিপি’র খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ কমিটি’র উদ্যোগে কলেজ গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাপলা চত্ত্বর হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ারে এসে ইতি চাকমা’র হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্লোগানের মাধ্যমে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করতে থাকে। এরপর সকাল ১০টায় পিসিপি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার ব্যানারে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ গেইট থেকে একটি বিক্ষোভ চেঙ্গী স্কোয়ার হয়ে মহিলা কলেজ শাখার ব্যনারসহ মহাজন পাড়া সূর্য শিক্ষা ক্লাবের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় পিসিপি’র খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শাখার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে সমাবেশ স্থলে যোগ দেয়। এতে শত শত ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

প্রতিবাদ সমাবেশে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি)-এর খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জেসীম চাকমার সভাপতিত্বে ও খাগড়াছড়ি মহিলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক উক্রাচিং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ-সভাপতি তপন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চৈতালী চাকমা ও টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ শাখার সদস্য রনেল চাকমা প্রমূখ।  

এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পিসিজেএসএস এমএন লারমা সমর্থিত পিসিপি’র খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সন্তোষ চাকমা ও খাগড়াছড়ি মহিলা কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার।

বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়ি শহর এলাকায় প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতে সংঘটিত কল্পনা চাকমা অপহরণ, সুজাতা, থুইমাচিং সবিতা, ছবি মারমাসহ আরো অনেক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনারই ধারাবাহিক অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতে সংঘটিত এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় বার বার এমন নৃংশংস ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা যেভাবে পার পেয়ে গেছে, একইভাবে ইতি চাকমাকে হত্যার ৩০ঘন্টা অধিক পার হলেও হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এই হত্যাকান্ডে জড়িতরাও পার পেয়ে যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। 

বক্তারা অবিলম্বে ইতি চাকমাকে হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখা দপ্তর সম্পাদক তুহিন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

এদিকে খাগড়াছড়িতে কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমা(১৮) খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ইতি চাকমার বড় বোন স্কুল শিক্ষিকা জোনাকি চাকমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।

খাগড়াছড়ি সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) এস এম মাসুদ আল চৌধুরী মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি নিজেই মামলাটি তদন্ত করছি। লাশ, ময়না তদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তাস্তর সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। 

তিনি আরও জানান, সব বিষয় মাথায় রেখে, গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে। খুব শীঘ্রই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা রাখি।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্রী ইতি চাকমাকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শহরের প্রাণ কেন্দ্র আরামবাগ এলাকায় এ হত্যাকান্ডটি ঘটে। পুলিশ ইতি চাকমার লাশ উদ্বার করেছে। সে দীঘিনালা উপজেলার  শনখোলা গ্রামের মৃত অন্তরিন্দ্রীয় চাকমার মেয়ে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ইতি চাকমা সবার ছোট। 

খাগড়াছড়ি শহরের আরামবাগ এলাকায় বাবুল নাগের বাসায় ভাড়া থাকেন অটল চাকমা। স্ত্রী জোনাকি চাকমা দীঘিনালা উপজেলার বানছড়া আনন্দময় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তাদের সাথে থাকতেন  ইতি চাকমা। 

অটল চাকমা জানান, তিনি সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ঢুকে দেখেন তার শালিকা ইতি চাকমার লাশ খাটের উপর পড়ে আছে। ইতি চাকমার বড় বোন স্কুল শিক্ষিকা জোনাকি চাকমা জানান, তিনি প্রতি শনিবার দীঘিনালায় যান এবং বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি আসেন। তার অনুপস্থিতিতে দুলা ভাই ও বোন দু’জন বাসায় থাকতেন।

অপরদিকে ইতি চাকমার খুনিদের গ্রেফতারের দাবীতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশ ৭২ঘন্টার মধ্যে ইতি চাকমার খুনের ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠিন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ার উচ্চারণ করা হয়।