Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

প্রার্থীদের জমজমাট প্রচার প্রচারনা

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মহিলাসহ প্রার্থী ৩, সদস্য পদে ৭২ জন সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মহিলাসহ প্রার্থী ৩, সদস্য পদে ৭২ জন

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করার পর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ইতিমধ্যে মহিলা ও পূরুষ প্রার্থী সহ ৪ জন এবং সদস্য পদে ১৫ টি ওয়ার্ডে প্রচারণা শুরু করেছেন ৭২ জন প্রার্থী। তবে সরকার এই নির্বাচনটিকে র্নিদলীয়ভাবে করার কথা ভাবছে বলে জানা যায়। র্নিদলীয়ভাবে এই জেলা পরিষদের নির্বাচন হলে আরো কয়েকদিনের মধ্যে প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে অনেকেই ধারনা করছেন। ইতিমধ্যে বসন্তের কোকিলের মতো সুদূর প্রবাস থেকেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য দেশে চলে   এসেছেন। 

চেয়ারম্যান পদে সক্রিয় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ৩ জন প্রার্থী। অপর একজন প্রার্থী কেবল পোষ্টার সাঁটিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে নিজের প্রার্থীতার জানান দিয়েছেন। ৫ টি নারী আসনে খুবই কম সংখ্যক প্রার্থী প্রচারণায় নেমেছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য ১ জন মহিলাসহ ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীই বিগত ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন। সদস্য প্রার্থীদের বেশিরভাগই স্থানীয় পত্রিকায় শুভেচ্ছা এবং গেল ঈদ ও পূজায় শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ব্যানার সাঁটিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। 

হাওরের এই সুনামগঞ্জ জেলার ৮৭ ইউনিয়ন, ১১ উপজেলা এবং ৪ পৌরসভায় জেলা পরিষদের ভোটার ১২৬৫ জন। এরাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ১৫ টি ওয়ার্ডের ভোটাররা ১৫ জন সদস্য এবং ৫ জন সংরক্ষিত আসনের (৩ টি ওয়ার্ডে একটি সংরক্ষিত আসন) নারী সদস্য নির্বাচিত করবেন। সরকারি ঘোষণা মোতাবেক আগামী ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচন। 

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক নুরুল হুদা মুকুট, সুদূর লন্ডন প্রবাসী একমাত্র মহিলা প্রার্থী চঞ্চলা রানী দাস ও নিজেরে প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়েছেন। তিনি গত ৮ নভেম্বর মহিলা প্রার্থী লন্ডন থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি দেশে এসে বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছেন। তিনি গত ১০ নভেম্বর দিরাই উপজেলার চরন্নারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রতন কুমার দাস তালুকদার ও পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য ও সদস্যাদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি সৌজন্যমূলক বৈঠক করেই তিনি জেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষনা দেন। তার বাড়ি জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের টাইলা গ্রামে।

নুুরুল হুদা মুকুট গত ৫ নভেম্বর শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ পৌরসভার আয়োজনে জেলার নব নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান দিয়েছেন। ঐ সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানও ছিলেন। এর আগেও কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নুরুল হুদা মুকুট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থীতার কথা জানান। সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে নিজের প্রার্থীতা প্রসঙ্গে নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘দলীয় প্রতীকে বা নির্দলীয় যেকোন   ভাবেই নির্বাচন হোক আমার বিশ্বাস দলের সমর্থন আমি পাব।’ তবে সম্ভবত এই নির্বাচন র্নিদলীয়ভাবে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী রয়েছে। তারপরেও আমার নেত্রী গনতন্ত্রের মানসকন্যা মানণীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকেই দলীয় সমর্থন দিবেন এবং বিজয়রে ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদি। তিনি দাবি করেন শনিবার জেলা শহরের শহীদ আবুল হোসেন মিলনায়তনে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় ৮৩৫ জন হাত তুলে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। এর মধ্যে ৫৬ জন ইউপি চেয়ারম্যানই ছিলেন।

ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ইতিপূর্বে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থীতা প্রসঙ্গে বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘স্থানীয় সরকারের প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় বোর্ড রয়েছে। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ড নিশ্চয়ই জেলার ৫ জন দলীয় সংসদ সদস্যের মতামতকেও গুরুত্ব দেবেন। আমাকে দুইবার দলীয় সভানেত্রী প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে  নেত্রীর দেওয়া দায়িত্ব পালন করেছি। এবারও আমি দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি’। আমার বিশ্বাস জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় ফোরাম থেকে আমার নামটিই আসবে। 

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র মহিলা প্রার্থী চঞ্চলা রানী দাস বলেন,আমার দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন ছিল জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগনের সেবা করার। এই মনোভাব নিয়েই আমি লন্ডন থেকে দেশে এসছি এবং আমি নির্বাচন করবই। আমার বিশ্বাস বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হিসেবে দেশে নারীর ক্ষমতায়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আমরা কেন নারীরা পরনির্ভরশীল হয়ে থাকব। আজ পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলি যেভাবে এগিয়েছে এর সাথে তাল মিলিয়ে নারী পূরুষ সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের বিচরন পরিলক্ষিত হবে। তিনি বলেন দলীয়ভাবে এই নির্বাচন হলে মানণীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আর যদি র্নিদলীয়ভাবে নির্বাচন হয় তাহলেও তিনি নির্বাচন করবেন এবং বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদি।  

এছাড়া জেলার ছাতকের আসিক আলী নামের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী শহরে কিছু পোস্টার সাঁটিয়েছেন।

দিরাই পৌরসভা, দিরাই-সরমঙ্গল, চরনারচর, রাজানগর, জগদল, করিমপুর ও রফিনগর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাড. সোহেল আহমদ, অ্যাড. আজাদুল ইসলাম রতন, নাজমুল ইসলাম, মঈনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক ও আব্দুস সাত্তার সম্ভাব্য প্রার্থী।

শাল্লা, বাহাড়া, হবিবপুর, আটগাঁও, তাড়ল ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সুবির নন্দি, সাংবাদিক পিসি দাশ পীযুষ, বাদল চন্দ্র দাস, আবু আব্দুল্লা চৌধুরী মাসুদ, নুরুল হক ও আবুল লেইছ চৌধুরী’র নাম আলোচনায় রয়েছে।

জামালগঞ্জ, সাচনাবাজার, বেহেলী, ভীমখালী, মোহনপুর, ভাটিপাড়া ও ফেনারবাঁক ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশিষ্ঠ সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, সঞ্জু ঘোষ চৌধুরী, নাসিরুল হক আফিন্দি, সায়েম পাঠান,মিসবাহ উদ্দিনের, গোল আহমদ ও কল্যাণব্রত তালুকদার প্রচারণায় রয়েছেন।
 
সদস্য পদে প্রচারণায় নেমেছেন ৭২ প্রার্থী। এরা হলেন-জেলার শ্রীপুর (উত্তর), বড়দল (দক্ষিণ), বড়দল (উত্তর), বাদাঘাট (উত্তর), তাহিরপুর ও বালিজুরী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হোসেন খান, জুনাব আলী, আতিকুর রহমান আতিক, অমল কর, মেহেদী হাসান উজ্জ্বল ও এনামুল হক।

বংশীকুন্ডা (উত্তর), বংশীকুন্ডা (দক্ষিণ) পাইকুরাটি, চামরদানী, মধ্যনগর ও শ্রীপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনায় রয়েছেন- প্রভাকর তালুকদার পান্না, মোজাম্মেল হোসেন রুকন ও আব্দুস সালাম।

সেলবরস, ধর্মপাশা, জয়শ্রী, সুখাইড় রাজাপুর (দক্ষিণ), সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থী শামীম আহমদ বিলকিস ও তার শ্যালক মোকারম হোসেন ও শাহ্ আব্দুল বারেক।

সলুকাবাদ, পলাশ, ধনপুর, বাদাঘাট দক্ষিণ, ফতেপুর ও গৌরারং ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মুহিবুর রহমান, শামসুজ্জামান শাহ্, সাজ্জাদুর রহমান সাজু, সৈয়দ আহমদ, অ্যাড. আলম নূর হীরা ও মুমিনুল ইসলাম মানিকের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

সুনামগঞ্জ পৌরসভা, জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা, রঙ্গারচর, মোল্লাপাড়া, লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু সুফিয়ান, সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ, মো. মমিন মিয়া, মাজাহারুল ইসলাম উকিল ও জুবের আহমদ অপু’র নাম প্রচারণায় রয়েছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্বপাগলা, পশ্চিমপাগলা, জয়কলস, শিমুলবাক, পাথারিয়া ও কাঠইর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তেরাব আলী, শাহাব উদ্দিন ও আব্দুল্লাহ মিয়া’র নাম বলছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।

জগন্নাথপুর পৌরসভা, কলকলিয়া, দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিমবীরগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুস শহীদ, আবুল কালাম রাজু, আব্দুল জব্বার ও সোহেল আমিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ, চিলাউড়া-হলদিপুর,  আশারকান্দি, পাটলী, মীরপুর, সৈয়দপুর-শাহাড়পাড়া নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল হাসান, শাজাহান সিরাজী, আব্দুল আহাদ মদরিছ, সৈয়দ সাব্বির আহমদ, আবুল হোসেন লালন ও নজরুল ইসলামের নাম আলোচনায় রয়েছে।

মান্নারগাঁও, পা-ারগাঁও, দোহালিয়া, চরমহল্লা, জাউয়াবাজার ও কোরবাননগর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১২ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাড. আবুল আজাদ রুমান, ইউনুস আলী, আব্দুল ওয়াহিদ, মাসুক মিয়ার নাম রয়েছে আলোচনায়। 

বাংলাবাজার, লক্ষীপুর, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার, বোগলাবাজার ও সুরমা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল খালেক, নুরুল ইসলাম, শাজাহান মাস্টার ও মিলন খাঁনের নাম প্রচারণায় রয়েছে।

ছাতক পৌরসভা, ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা ও খুরমা (উত্তর) ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবরু মিয়া তালুকদার, অ্যাড. ছায়াদুর রহমান ছায়াদ, শাহীন চৌধুরী, আজমল হোসেন সজল ও আপ্তাব উদ্দিনের প্রচার রয়েছে।

সিংচাপইড়, খুরমা (দক্ষিণ), দোলারবাজার, গোবিন্দগঞ্জ, সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজলাবাদ ও ভাতগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছানাউর রহমান তালুকদার ছানা, গিয়াস মিয়া, আলী আহমদ, এম এ রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া সম্ভাব্য প্রার্থী বলে প্রচারণা রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হবার জন্য খুবই সংখ্যক নারী মুখ খুলেছেন। 

তবে ৫ টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে স্মৃতি রানী দে, তাহমিনা বেগম, সাদিয়া বখত সুরুভি ও বাহারজান বেগমের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর