Opu Hasnat

আজ ৩০ মে শনিবার ২০২০,

জ্বালানী তেলের অজুহাত

গোয়ালন্দে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ, রোগীদের দূর্ভোগ স্বাস্থ্যসেবারাজবাড়ী

গোয়ালন্দে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ, রোগীদের দূর্ভোগ

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতেকরে গোয়ালন্দ উপজেলার সাধারন মানুষ গুরুতর অসুস্থ্য রোগী পরিবহন নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন।

জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ বিবেচনা করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। এ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার পর থেকে এটি উপজেলাবাসী অতি জরুরী সার্ভিসে পরিণত হয়। এছাড়া হাসপাতালটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় আহত রোগীদের পরিবহনে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল। এ অবস্থায় এ মাসের এক তারিখ থেকে জ্বালানী তেলের মূল্য বকেয়ার অজুহাতে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। এতেকরে এখানকার রোগী পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক সূত্র জানায়, অতীতেও জ্বালানী তেলের বকেয়া নিয়ে এ সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু কখনো এ জনগুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসটি বন্ধ করা হয়নি। বিশেষ ব্যবস্থায় এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সচল রাখা হয়েছিল। এবার কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ফিলিং স্টেশনকে যথাযথ ভাবে বললে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ করত না। কারণ অতিতে তারা কখনো এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেনি।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিন হৃদরোগীসহ বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থ্য রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। অনেক সময় তাদেরকে জরুরী ভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। এ ক্ষেত্রে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস না থাকায় চরম ঝুঁকি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

করিম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রিপন মিয়া জানান, জুন মাস পর্যন্ত এ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানী বাবদ বাকি ছিল ১০ লক্ষ টাকা বকেয়া ছিল। এরমধ্যে ২ লক্ষ টাকা পরিশাধ করা হয়। এ অবস্থায় তেল সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন মালিক পক্ষ। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলায় আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে পুনরায় জ্বালানী তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম এ হান্নান জানান, ফিলিং স্টেশন জ্বলানী বাবদ ৮ লক্ষ টাকা পাবে। আর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এ টাকা ছাড় করে নাই। এ কারণে তারা জ্বালানী তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় আপাতত এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ আছে। এ ধরনের সমস্যায় অতীতে অনিয়ম করে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু রাখা হয়েছিল। আমি কোন অনিয়ম করে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু রাখার পক্ষে নাই।